সাধু ও সাধুসঙ্গ ৭:
বাহ্যিক শিক্ষা যখন অধিক হয়ে যায়
তখন মানুষের মনে জন্মায় একধরনের অহংকার যা তাকে আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে ক্রমশ নিম্ম
দিকে ধাবিত করে। তারা কাউকেই গুরু বলে মানতে চায় না। এখানেই জ্ঞানী আর শিক্ষিতের
মধ্যে পার্থক্য। জ্ঞানীরা সব সময় তার চেয়ে অধিক আধ্যাত্মিক জ্ঞানের লোকের সন্ধান
করে এবং তার শিষ্যত্ব গ্রহন করে জ্ঞান অর্যনের চেষ্টায় থাকে। অপর পক্ষে শিক্ষিতের
মধ্যে বিরাজ করে অহমিকা। আমাদের সাধারণ মানুষের উচিৎ মান
অহংকার ছেরে দিয়ে বিনয়ী হয়ে স্রষ্টামুখী আরাধনাতে মন দেয়া। ফকির লালন সাঁই তার গানের শ্লোকে বলে গেছেন
(তুই কোন পথে যাবি মনুরায়। গুরুকুল পাইতে হইলে লোককুল ত্যাগীতে হয়)...
সাধু ও সাধুসঙ্গ ৮:
আধ্যাত্মিক সাধকদের কেউ সুখে নেই।
যদি অন্য ভাবে বলি তবে তারা সকল প্রকার সুখ শান্তি ত্যাগ করেই এই পথে এসেছে। তবে এ
দুঃখের কারন কি হতে পারে? জবাবটা এ পথের সকলেই জানেন। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না, খুঁজতে গেলেই পথে হোঁচট
খেতে হয় মুহুর্তে মুহুর্তে। সে নাকি আমার মাঝেই আছে তবে কোথায় যাই তাকে খুঁজতে, কেমন সেই পথ যে পথে
হোঁচট খেতে হয়।
সাধু ও সাধুসঙ্গ ৯:
ধর্মটা হচ্ছে যার যার বিশ্বাস এবং
কিছু নিয়ম, কানুন, আদেশ। এই বিশ্বাস যতক্ষণ আছে ততক্ষণ ধর্ম আছে। তবে অনেকেই ধর্ম
ছেড়ে দিয়েছে, তারা যে কী পেয়েছে ধর্ম ছেড়ে এটা তারাই ভাল জানে। তবে আমার কথা হল
যদি ধর্ম ছেড়ে দিয়ে আপনি কিছুই না পান তবে ধর্মেই ফিরে আসুন। কারণ ধর্মটা হচ্ছে
একটি নির্দিষ্ট সিলেবাস আর যদি ধর্ম ছেড়ে দেন তবে আপনি একরকম গোলক ধাঁধাঁয়
পড়েগেলেন। আপনার সহায় বলতে আপনি নিজেই, যদি কোরানকে ফলো করেন তবে তা
ধর্মে থেকেই পারতেন, আর যদি বেদকে ফলো করেন তবে তাও ধর্মে থেকেই পারতেন, যদি বাইবেলকে, ত্রিপিটকে ফলো করেন তবে তাও ধর্মে
থেকেই করা যায়। এ কথা বলার কারণ হচ্ছে এদের উপরে আর কোন গ্রন্থ এখনো রচিত হয়নি যার
দ্বারা কিছু পাওয়া যেতে পারে। এখন যদি কেউ বলে যে আমি ধর্মে থেকে কিছুই পাইনি তাই
ধর্ম ছেড়ে দিয়েছি, তবে আমি বলব আপনি কোন দিন চেষ্টাই করেননি। অনেক বড় জ্ঞানী গুণী
মনিষী আছেন এই পৃথিবীতে তারা তোঁ কেউ ধর্ম ত্যাগ করেননি দুএক জনের কথা আলাদা।
অন্যদের কথা বাদ আপনি আপনার কথা বলুন আমি আমার কথা বলি তাহলেই ব্যাপারটা সহজ হয়ে
যাবে। স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি করা সম্পুর্ন নিষেধ তারপরেও অনেকেই তা করে, মূলত এটা যারা যারা করেছে তাদের
ভেতরেই অধর্মের আবির্ভাব ঘটেছে। আপনার কিছু পাওয়া আর নাপাওয়া নির্ভর করে আপনার
কর্মের উপর, এখানে ধর্ম আসে কেন? ধর্ম এবং অধর্ম দুটোই নির্ভর করে ব্যাক্তির নিজের উপর, তার মন মানসিকতার উপর।
No comments:
Post a Comment