গোটা জীব জগতের মধ্যে মানবকুলই পরম স্রষ্টার সন্ধান লাভ
করতে সক্ষম হয়েছে আর এ কারনেই মানুষকে বলা হয় শ্রেষ্ট জীব:
গোটা জীব জগতের মধ্যে মানবকুলই
পরম স্রষ্টার সন্ধান লাভ করতে সক্ষম হয়েছে আর এ কারনেই মানুষকে বলা হয় শ্রেষ্ট
জীব। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ভাবে সাধুরা সাধন পন্থাটুকুকে সহজ হতে সজতর করে তুলেছে।
সেই সুবাদে আমাদের মাঝে এখন ভাববাদ এবং বস্তুবাদ দুটি পন্থাই মিলে।
ফায়াজ(উত্তাপ)
তাওয়াজ্জু(অগ্নিকুণ্ড) এটা কোন আগুন? এটা এস্কের আগুন, যে আগুন চোখে দেখা যায়
না কেবলই অনুভব করা যায়। যে আগুনে দগ্ধ হয়ে মানুষ
নিষ্পাপ হয়। ভাববাদ হচ্ছে কুপির অগ্নি স্বরূপ আর বস্তুবাদ হচ্ছে তার তেল। মূলত
সাধন জগতে ভাববাদের আবির্ভাবই প্রথমে হয়েছে। ভাববাদকে আরো জোরালো আরো মজবুত করার
জন্যেই আবিস্কার হয়েছে বস্তুবাদ।
কথা ছিল বস্তুবাদের বস্তু সংগ্রহের পর এবং দেহ পরিপক্ক
হওয়ার পরে তাকে আবার ভাববাদেই ফিরে আসতে হবে সাধনার সিদ্ধির জন্যে। কিন্তু বর্তমান
সময়ে সাধন পন্থা হয়ে গেছে ঠিক যেন তার উল্টোটা। সুধার আশায় ভাণ্ডে ছুটে যায় ঠিক
কিন্তু আনে গরল আর মধু আনতে গিয়ে মৌচাকে এমন ভাবেই লেগে যায় আর ওখান থেকে ছুটে
আসতে পারে না। সুধা আর মধুই যেন সব কিছু, গোটা জীবনটাই এই দিকে কেটে যায়।
একজন মানুষ যদি কেবলিই ভাববাদে থাকে তাহলে সে হবে উদাস সংসার ত্যাগী। অপর পক্ষে
একজন মানুষ যদি কেবলিই বস্তুবাদে থাকে তাহলে সে হয়ে যাবে সমাজ ত্যাগী ধর্ম ত্যাগী।
সকল নিয়ম কানুনের সাথাই তার একটা বিরোধিতা থাকবে কোন কিছুই মানতে নারাজ। এমন অনেক
বস্তুবাদী লোক আছে যারা শেষ পর্যন্ত স্রষ্টাকেই অস্বীকার করেছেন। এ জন্যে নিয়ম
হচ্ছে সব কিছু মিলিয়ে চলতে হয়, আর বস্তুবাদে বিচরণ করতে গেলে
নিজের ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয়। অধিক কোন কিছুই ভাল নয়। বস্তুবাদীদের কথা
শুনলেও সাবধানে শুনতে হয়, বস্তুবাদে বিচরণ করলেও সাবধানে বিচরণ করতে হয়।
No comments:
Post a Comment