মানুষের মধ্যে অজানাকে জানার চেতনা আসে কোথা হতে?
একজন মানুষের মধ্যে প্রথম চেতনা
জাগে অন্য আরেকজন সচেতন মানুষের সান্নিধ্য লাভ করার পর। অজানাকে জানার চেতনা, যার একমাত্র পন্থা
হচ্ছে জ্ঞানের সাধন। একজন মানুষ তার জন্ম হতে প্রয়াণ পর্যন্ত নতুন নতুন শিক্ষা লাভ
করে। এটা সাধারন ভাবেই ঘটে, কিন্তু সাধক শ্রেণীর লোকেরা এই শিক্ষায় তৃপ্ত নয় তাদের আরো জ্ঞান
চাই। তখন শুরু করে তারা জ্ঞানের চর্চা। মূলত এই চর্চা শুরু হয় প্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষা শেষ হওয়ার পরে। যারা যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হওয়ার পরেও পড়াশুনা ছাড়েননি জ্ঞানের চর্চাও ছাড়েননি তাদের কাছেই
মিলে অলৌকিক কিছু তথ্য। এটা যেকোনো বিষয়ে হতে পারে বাহ্যিক কোন বিষয় অথবা
আধ্যাত্মিক বিষয়।
একজন সাধারন মানুষের মধ্যে যখন
অজানাকে জানার চেতনা জাগে এবং জ্ঞান চর্চার আকাঙ্ক্ষা জাগে তখন সে মূলত নিজের
জন্যেই নিজের তাগিদে জ্ঞানের চর্চা শুরু করে। কিন্তু যখনই সে স্বীয় সাধনায় সিদ্ধি
লাভ করে তখন সে হয়ে যায় সমাজের তথা দেশের সম্পদ। তখন সে আর তার থাকেনা সে হয়ে
সবার। এটাও যেকোনো বিষয়ে হতে পারে বাহ্যিক কোন বিষয় অথবা আধ্যাত্মিক বিষয়।
এই কথাগুলো বলার কারণ হচ্ছে, আমরা আমাদের
মহামূল্যবান সময় যা বিনা কারণে নষ্ট হয়ে যায় সেগুলোকে যদি উপযুক্ত কাজে লাগাই
তাহলে আমাদের মধ্যেও একটা পরিবর্তন আসবে। পরিশ্রম কখনোই বৃথা যায় না। প্রকৃত
জ্ঞানীদের সান্নিধ্য মিলাটা দু:সাধ্য এটাই পরম সত্য। সুতরাং আপনি নিজেই কেন হয়ে
যাচ্ছেন না একজন জ্ঞানের জ্ঞানী মহাজ্ঞানী। জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই আলো।
ভোগে শান্তি নেই ত্যাগেই প্রকৃত শান্তি মিলে।
কারো ভুল ধরা আমার কাজ নয়। কারণ
আমার নিজের ভেতরেই অনেক ভুল। তবে ভোগে শান্তি এটা আমি মেনে নিতে পারছিনা। যদি এটা
সত্যি হয় তাহলে আমাদের মাঝে । গীতার আবির্ভাব হতনা। কিছুক্ষণ একাধারে গীতা গীতা গীতা...... উচ্চারণ
করেন দেখেন প্রকৃত শব্দটা দাঁড়ায় #ত্যাগী গভীর জ্ঞান নিয়ে জ্ঞান সাগরে ডুবে যেতে হবে। তবেই মিলে যাবে সকল
প্রশ্নের জবাব। দুনিয়ার গাড়ী বাড়ী নারী উপভোগ করাই যদি হয় ভোগ তথা শান্তি তবে
আমাদের । রাসূলকোন শান্তির আশায়
দরিদ্র জীবনকে বেছে নিয়েছিলেন? শ্রী-রাম-চন্দ্র কেন রামরাজত্ব ছেড়ে
দিল? ফকির লালন সাঁই বলেগেছেন (কিঞ্চিৎ ধ্যানে
মহাদেব_সে তুলনা কি আর দেবো_লালন বলে গুরু ভাবো_যাবে রে মনের ধোঁকা।)। বুঝাই যাচ্চছে প্রকৃত শান্তিটা অন্যকিছু যা
জ্ঞানীদের ইশারায় পাওয়া যায়। আমাদের ধ্যানের জগতে যেতে হবে নইলে বাহ্যিক জ্ঞানের
জড়তা কাটবেনা।
একটি মানুষের ৪টি মূল সত্তা থাকে ১) দেহ ২) আত্মা ৩) মন ও ৪) জ্ঞানঃ
একটি মানুষের ৪টি মূল সত্তা থাকে দেহতত্ত্ব ১) দেহ ২)
আত্মা ৩) মন ও ৪) জ্ঞান। মানুষ যখন ঘুমায় তখন দেহ এবং আত্মা সাথে থাকে। আর মন থাকে
ভ্রমণে এবং জ্ঞান থাকে অনুপস্থিত। এ কারণেই মানুষ যখন ঘুম হতে উঠে তখন মনে হয় তার
কি যেন নেই বা কি যেন হারিয়েফেলেছে। কিছু একটা অভাব বোধ করে। কিন্তু যখনই তার
মধ্যে মন এবং জ্ঞানের সঞ্চার হতে থাকে ঐ অভাবটুকু আস্তে আস্তে কাটতে থাকে। মূলত
মনের অনুপস্থিতেই এই অভাবটুকু হয়ে থাকে। আত্মা কখনোই ভ্রমণে যায় না আত্মা দেহের
ভেতরেই থাকে। কারণ আত্মা দেহের বাইরে গেলে মানবের প্রয়াণ ঘটে যায়। তবে আধ্যাত্মিক
সাধকদের কথা আলাদা আত্মাকে দেহের বাইরে বের করাই তাদের মূল লক্ষ্য যাকে বলে জীন্দা
মরা।
No comments:
Post a Comment