তরীকতঃ
তরীকত শব্দটি তারীক শব্দ থেকে উদ্ভূত। তারিক শব্দের আভিধানিক অর্থ পথ বা পথ চলা । আর তরীকত শব্দের অর্থ পথ চলার নিয়ম কানুন । শরীয়ত থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তরীকতের পথ ধরে মারফত, হাকীকত ও ওয়াহ্দানিয়াতের লক্ষ্যবিন্দুতে পৌঁছা যায় তাকেই তরীকত বলা হয়। শরীয়ত থেকে মারেফতে উত্তীর্ণ হতে হলে যে পথ অনুসরণ করতে হয় সেই অনুসৃত পথের নামই তরীকত । তরীকতপন্থী সালেকের জন্য তরীকতের অজানা-অচেনা পথ চলার জন্য একজন দিশারী বা মুর্শিদের প্রয়োজন । মুর্শিদ তাঁকে পথ দেখিয়ে তাঁর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেন । আবার শরীয়ত পন্থীরা যখন তরীকতের পথে চলতে শুরু করেন তখন তাকে ছালেক নামে অভিহিত করা হয় । ছালেক মুর্শিদের নিকট থেকে মারেফত জগতের বহু রহস্য জেনে নেন । তরীকতের সাধন-ভজনকালে ছালেকের নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়, নানা প্রশ্নের উদ্ভব ঘটে, নতুন নতুন তত্ত্ব ও তথ্য উদ্ঘাটিত হতে থাকে। আশেক আর মাশুক মিলন স্বাদে আত্মবিভোর হয়ে যায় । মাশুকের মিলন বাসনা থেকেই হৃদয়ে সৃষ্টি হয় আল্লাহপাকের স্মরণ । ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় মহানবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) আল্লাহর প্রেমে সারাক্ষণ নিমগ্ন থাকতেন । তিনি আল্লাহর স্মরণে সর্বক্ষণ ডুবে থাকা অবস্থায় সংসার ধর্ম করতেন। প্রত্যেক সাহাবাই রাছুলের হাতে হাত রেখে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন । এই বায়আত নবুয়ত (রেসালত) রাষ্ট্রীয় খেলাফত প্রভৃতি অর্থেই বহাল ছিল । বায়আত এখন পীর-মুরীদ অর্থে বহুল প্রচলিত । রাসুলে পাক (সাঃ) ছিলেন সমগ্র মানব জাতির দিশারী । তাঁর দেয়া দিশা থেকেই ওলিগণ লাভ করতে পেরেছেন সত্যের সন্ধান, পেয়েছেন বেলায়তের উত্তরাধিকারী । তাই তরীকত পন্থীদের কর্তব্য কামেল পীর বা মুর্শিদের নিকট বায়েত গ্রহণ করা । তার মুর্শিদের দেওয়া ছবক নিয়মিত পালন করা । পীরের দেয়া শর্ত পালনে সক্ষম মুরিদকেই তরিকতের গোপন রহস্য সম্পর্কে মুর্শিদ অবহিত করে থাকেন । তরীকত হলো রিয়াজাত-মুশাহিদার পথ, আত্মসংযম ও কঠোর সাধন ভজনের পথ । তরীকত আলমে মালাকুতের অন্তর্ভুক্ত । আলমে মালাকুতকে বলা হয় খোদায়ী জগত, ফেরেশতা জগত, আত্মজগত । এই আলমে মালাকুতে প্রবেশ করতে হলে মানব চরিত্রের কতগুলো মন্দ স্বভাব পরিহার করিতে হয় । যথা-কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মিথ্যা, হিংসা- বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, আত্মঅহংকার, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, জাগতিক ধন সম্পদ, ঐশ্বর্য, কৃপনতা, লোক দেখানো উপাসনা, অবৈধ কার্যকলাপ মিথ্যা, প্রতারণা, পণ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো, ওজনে কম দেওয়া, ওজনে বেশি নেওয়া, অধিক মুনাফার আশায় পণ্যদ্রব্য গুদাম জাত করা, রাহাজানী, নরহত্যা, অপহরণ, মদ্যপান প্রভৃতি ।
তরিকতের প্রচলিত ৭ (সাত) আরকান এবং ৬ (ছয়) আহকাম রয়েছে ৭টি আরকান হলো
(১) আল্লাহকে জানার মত সময়উপযোগী জ্ঞানার্জন । (২) জাগতিক লোভ লালসা বিসর্জন । (৩) দুঃখ দৈন্যে ধৈর্য ধারণ (৪) আল্লাহ পাকের অনুগ্রহের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ (৫) হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভয়ভীতি রাখা (৬) আল্লাহর স্মরণে সর্বক্ষণ নিমগ্ন থাকা (৭) মুরাকাবার মাধ্যমে স্রষ্টা ও সৃষ্টির ধ্যান ধারণায় মগ্ন থাকা ।
তরিকতের ৬ ছয় আহকাম হলো (১) আল্লাহর মারফত লাভ (২) দানশীলতা (৩) সত্যবাদিতা রক্ষায় অটল থাকা (৪) ভাগ্যলিপির উপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাস রাখা (৫) আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা বজায় রাখা । (৬) পাশব প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামরত অবস্থায় দৃঢ়পদ থাকা ।
এছাড়াও কম কথা, কম ঘুম ও কম খাবারে অভ্যস্ত হওয়া, নির্জন বাস করা । নৈতিক চরিত্রের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে আত্মিক পবিত্রতা অর্জন করাই ত্বরীকতের মুখ্য উদ্দেশ্য । সূর্য যেমন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সূর্যরশ্মি বা সূর্যের কিরণ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়ে পড়ি, অনুরূপভাবে মানব আত্মাও পাশব প্রবৃত্তি দ্বারা তমসাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ।
তরীকত শব্দটি তারীক শব্দ থেকে উদ্ভূত। তারিক শব্দের আভিধানিক অর্থ পথ বা পথ চলা । আর তরীকত শব্দের অর্থ পথ চলার নিয়ম কানুন । শরীয়ত থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তরীকতের পথ ধরে মারফত, হাকীকত ও ওয়াহ্দানিয়াতের লক্ষ্যবিন্দুতে পৌঁছা যায় তাকেই তরীকত বলা হয়। শরীয়ত থেকে মারেফতে উত্তীর্ণ হতে হলে যে পথ অনুসরণ করতে হয় সেই অনুসৃত পথের নামই তরীকত । তরীকতপন্থী সালেকের জন্য তরীকতের অজানা-অচেনা পথ চলার জন্য একজন দিশারী বা মুর্শিদের প্রয়োজন । মুর্শিদ তাঁকে পথ দেখিয়ে তাঁর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেন । আবার শরীয়ত পন্থীরা যখন তরীকতের পথে চলতে শুরু করেন তখন তাকে ছালেক নামে অভিহিত করা হয় । ছালেক মুর্শিদের নিকট থেকে মারেফত জগতের বহু রহস্য জেনে নেন । তরীকতের সাধন-ভজনকালে ছালেকের নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়, নানা প্রশ্নের উদ্ভব ঘটে, নতুন নতুন তত্ত্ব ও তথ্য উদ্ঘাটিত হতে থাকে। আশেক আর মাশুক মিলন স্বাদে আত্মবিভোর হয়ে যায় । মাশুকের মিলন বাসনা থেকেই হৃদয়ে সৃষ্টি হয় আল্লাহপাকের স্মরণ । ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় মহানবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) আল্লাহর প্রেমে সারাক্ষণ নিমগ্ন থাকতেন । তিনি আল্লাহর স্মরণে সর্বক্ষণ ডুবে থাকা অবস্থায় সংসার ধর্ম করতেন। প্রত্যেক সাহাবাই রাছুলের হাতে হাত রেখে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন । এই বায়আত নবুয়ত (রেসালত) রাষ্ট্রীয় খেলাফত প্রভৃতি অর্থেই বহাল ছিল । বায়আত এখন পীর-মুরীদ অর্থে বহুল প্রচলিত । রাসুলে পাক (সাঃ) ছিলেন সমগ্র মানব জাতির দিশারী । তাঁর দেয়া দিশা থেকেই ওলিগণ লাভ করতে পেরেছেন সত্যের সন্ধান, পেয়েছেন বেলায়তের উত্তরাধিকারী । তাই তরীকত পন্থীদের কর্তব্য কামেল পীর বা মুর্শিদের নিকট বায়েত গ্রহণ করা । তার মুর্শিদের দেওয়া ছবক নিয়মিত পালন করা । পীরের দেয়া শর্ত পালনে সক্ষম মুরিদকেই তরিকতের গোপন রহস্য সম্পর্কে মুর্শিদ অবহিত করে থাকেন । তরীকত হলো রিয়াজাত-মুশাহিদার পথ, আত্মসংযম ও কঠোর সাধন ভজনের পথ । তরীকত আলমে মালাকুতের অন্তর্ভুক্ত । আলমে মালাকুতকে বলা হয় খোদায়ী জগত, ফেরেশতা জগত, আত্মজগত । এই আলমে মালাকুতে প্রবেশ করতে হলে মানব চরিত্রের কতগুলো মন্দ স্বভাব পরিহার করিতে হয় । যথা-কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মিথ্যা, হিংসা- বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, আত্মঅহংকার, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, জাগতিক ধন সম্পদ, ঐশ্বর্য, কৃপনতা, লোক দেখানো উপাসনা, অবৈধ কার্যকলাপ মিথ্যা, প্রতারণা, পণ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো, ওজনে কম দেওয়া, ওজনে বেশি নেওয়া, অধিক মুনাফার আশায় পণ্যদ্রব্য গুদাম জাত করা, রাহাজানী, নরহত্যা, অপহরণ, মদ্যপান প্রভৃতি ।
তরিকতের প্রচলিত ৭ (সাত) আরকান এবং ৬ (ছয়) আহকাম রয়েছে ৭টি আরকান হলো
(১) আল্লাহকে জানার মত সময়উপযোগী জ্ঞানার্জন । (২) জাগতিক লোভ লালসা বিসর্জন । (৩) দুঃখ দৈন্যে ধৈর্য ধারণ (৪) আল্লাহ পাকের অনুগ্রহের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ (৫) হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভয়ভীতি রাখা (৬) আল্লাহর স্মরণে সর্বক্ষণ নিমগ্ন থাকা (৭) মুরাকাবার মাধ্যমে স্রষ্টা ও সৃষ্টির ধ্যান ধারণায় মগ্ন থাকা ।
তরিকতের ৬ ছয় আহকাম হলো (১) আল্লাহর মারফত লাভ (২) দানশীলতা (৩) সত্যবাদিতা রক্ষায় অটল থাকা (৪) ভাগ্যলিপির উপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাস রাখা (৫) আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা বজায় রাখা । (৬) পাশব প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামরত অবস্থায় দৃঢ়পদ থাকা ।
এছাড়াও কম কথা, কম ঘুম ও কম খাবারে অভ্যস্ত হওয়া, নির্জন বাস করা । নৈতিক চরিত্রের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে আত্মিক পবিত্রতা অর্জন করাই ত্বরীকতের মুখ্য উদ্দেশ্য । সূর্য যেমন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সূর্যরশ্মি বা সূর্যের কিরণ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়ে পড়ি, অনুরূপভাবে মানব আত্মাও পাশব প্রবৃত্তি দ্বারা তমসাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ।
No comments:
Post a Comment