সাধু ও সাধুসঙ্গ ৩:
সাধুরা কথা কম বলে, সরাসরি কোন প্রশ্নের
জবাব দিতে চায় না ছোটখাটো একটি কথা জানার জন্য তার কাছে শতবার ছুটে যেতে হয়।
প্রশ্নের জবাব একটাই সাধু-সঙ্গ করতে থাকো জবাব মিলে যাবে। যদিও বা কখনো জবাব দেয় ঐ
জবাব বুঝতেই মাথার ঘাম পায়ে নামে। সাধুদের কাজ মূলত কি? তা বুঝা সাধারন লোকের
পক্ষে সম্ভব না। তবে এটা সত্য যে ফকির, সাধু, দরবেশ এদের কাছে ধন
সম্পদ থাকে। সম্পদ মূলত দুই প্রকার ১) পৃথিবীর সম্পদ ২) রুহানী সম্পদ। তাঁরা থাকে
রুহানী সম্পদে ভরপুর, সম্পদ আহরন করাই হল তাদের ফকিরি আর
পন্থাটা হল ফিকির। পৃথিবীর সম্পদ যেমন চুরি-ডাকাতি হয় ঠিক তেমনি রুহানী সম্পদেরও
চুরি-ডাকাতি হয়। সাধুরা কাউকে বুকে তুলেও নেয় না আবার কাঊকে ক্ষমাও করে না, তাদের কাছে আপন পর সব সমান। কেঁউ
সম্পদ আহরন করে ঈবাদতের মাধ্যমে আবার কেঁউ আহরন করে চুরি-ডাকাতির মাধ্যমে।
চুরি-ডাকাতি কখন কিভাবে হয় এটা সকল অভিজ্ঞ লোকেরাই জানে, ধরা খায় কেবল অনভিজ্ঞ, আনারি, অন্ধভক্তরা...
হিসেবে যার শুরুতেই গরমিল
শেষের দিকে এসে আর হিসেব মিলবে না
যার হিসেব ঠিক নেই
তার কিছুই ঠিক নেই
হিসেবে যে পাকা তার কোন ভয় নেই
হিসেবের ঘরে মহা রতি
দেখতে লাগে দিব্য জ্যোতি
আমি কিছুই বুঝি না শুধুই তাকিয়ে রই
আজ আর বুঝে কাজ নেই
বেলা গেল, চল আপন ঘরে যাই...
শেষের দিকে এসে আর হিসেব মিলবে না
যার হিসেব ঠিক নেই
তার কিছুই ঠিক নেই
হিসেবে যে পাকা তার কোন ভয় নেই
হিসেবের ঘরে মহা রতি
দেখতে লাগে দিব্য জ্যোতি
আমি কিছুই বুঝি না শুধুই তাকিয়ে রই
আজ আর বুঝে কাজ নেই
বেলা গেল, চল আপন ঘরে যাই...
গুরু-শিষ্য
**********
মূলধন ছাড়া ব্যবসা হয় না
গুরু ছাড়া শিষ্য/ভক্ত হয় না
গুরু প্রথমে ভক্তকে দেয় কিছু
তাই নিয়ে ভক্ত দাঁড়ায় গুরুর পিছু
এবার শুরু হয় লেনা দেনা
ভক্ত করে বাজারে আনাগোনা
উপযুক্ত ভক্ত হতে পারলে
যদি নিজের করে কিছু মিলে
সর্বজ্ঞান কনো গুরুই সাধন করে না
কিছু জ্ঞান তার গুরুর কাছ থেকে আনা
প্রশ্নপর্ব এবার ক্ষান্ত করো
কিছু জ্ঞান নিজে অর্জন করো
**********
মূলধন ছাড়া ব্যবসা হয় না
গুরু ছাড়া শিষ্য/ভক্ত হয় না
গুরু প্রথমে ভক্তকে দেয় কিছু
তাই নিয়ে ভক্ত দাঁড়ায় গুরুর পিছু
এবার শুরু হয় লেনা দেনা
ভক্ত করে বাজারে আনাগোনা
উপযুক্ত ভক্ত হতে পারলে
যদি নিজের করে কিছু মিলে
সর্বজ্ঞান কনো গুরুই সাধন করে না
কিছু জ্ঞান তার গুরুর কাছ থেকে আনা
প্রশ্নপর্ব এবার ক্ষান্ত করো
কিছু জ্ঞান নিজে অর্জন করো
সাধু ও সাধুসঙ্গ ৪:
আধ্যাত্মিক মানেই যে অলৌকিক কিছু
একটা, প্রথমেই বদলাতে হবে এই মনোভাব। একান্তই নিজের কথা নিজের খবর নিজেকে
চেনার মত জানার মত জ্ঞান। বাজারের বই পুস্তক পড়ে খানিকটা লাভবান হওয়া যাবে কিন্তু
পূর্ন জ্ঞান পাওয়া যাবে না। বইয়ের জ্ঞান ভুল কি শুদ্ধ তা বুঝা কঠিন। ফকির লালন
সাঁইকে যদি আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে দেখি তাহলে দেখাযাবে যে সে বাস্তবে যখন যা
করেছে সেই কাজের ফলটুকু তার গানের শ্লোকে তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ
আধ্যাত্মিক লিখা লিখতে হলে আগে নিজেকেই তা করতে হবে এবং সে হিসেবেই লিখতে হবে। কিন্তু এখানেও
একটু ঝামেলা আছে কারন ফকির লালন সাঁই বাস্তবে কোনো পুস্তক গদ্য আকারে লিখে যাননি
শুধু গানের শ্লোক। বাজারে গদ্য আকারে যা পাওয়া যায় তা সবই অন্যের লিখা।
বাহিরে বারো
ঘরেতে তেরো
জ্ঞানী হলে আরো
ভেদ জানতে পারো !!
জ্ঞানী ছুটে জ্ঞানের পিছে
অজ্ঞানী ক্লান্ত হয় মিছে
আছে যার জানার ইচ্ছে
সেই ভবের মায়া ছেড়েছে !!
ঘরেতে তেরো
জ্ঞানী হলে আরো
ভেদ জানতে পারো !!
জ্ঞানী ছুটে জ্ঞানের পিছে
অজ্ঞানী ক্লান্ত হয় মিছে
আছে যার জানার ইচ্ছে
সেই ভবের মায়া ছেড়েছে !!
No comments:
Post a Comment