সাধু ও সাধুসঙ্গ ১৪:
কর্মগুণে যেমন মানুষ তার ইবাদতে
অগ্রসর হয়। ঠিক তেমনি কর্মদোষে ইবাদতে ততটাই পিছিয়ে যায়। যাদের দেহ জাগ্রত তাদের
উচিৎ ভাণ্ডে সর্বদা অগ্নি জ্বালিয়ে রাখা। এর জন্যে পন্থা
একটাই আপু চালিয়ে রাখা। আপু যতক্ষণ চলবে অগ্নি ততক্ষণ জ্বলবে। এটা হচ্ছে
জ্ঞানবাজারে জ্ঞানীদের একটা টোটকা জ্ঞান, কিন্তু ক্ষমতা সুবিশাল। গুরুরা
সকল কথা ভেঙ্গে বলেনা, কিছু জ্ঞান নিজেরো থাকতে হয়। যার জ্ঞান কম সে হয় জ্ঞানবাজারে অচল।
সে তার নিজের ধনটুকুও রক্ষ করতে পারেনা, বাড়তি অর্জন করবে কিভাবে। আমাদের
উচিৎ যার যার নিজের জ্ঞানের চাইতে অধিক জ্ঞানীদের সাথে সাধুসঙ্গ
করা, চলাফেরা করা, উঠাবসা করা সেখান থেকে কিছু জ্ঞান
অবশ্যই মিলবে, যদি সে নাও দেয় তবু তার কথা-বার্তা আচার-আচরণ থেকে অনেক জ্ঞান চলে
আসবে। কেউ এমনি এমনি অন্য কাউকে কিছু দেয় না, এটা অর্জন করে নিতে হয় কৌশলে।
সাধু ও সাধুসঙ্গ ১৫:
~~~ভুল নেই এমন মানুষ খুঁজেও পাওয়া যাবে না। আমাদের সবার মাঝেই কিছু না কিছু ভুল আছেই। একজন সাধকের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে তার জীবনের ভুলের মাত্রা কমিয়ে আনা। এটা খুব কঠিন কাজ তবে ধীরে ধীরে আয়ত্ত হয়ে যায়।
~~~একজন মাঝী যখন প্রথম নৌকার হাল ধরে নৌকাটি এদিক সেদিক দুলতে থাকে। আরেকজন পাকা মাঝী নতুনকে হাতে ধরিয়ে দেখিয়ে দেয় এভাবে ধরতে হয় হাল। যদি অন্য ভাবে বলি তবে একজন লোক যে প্রথম বার বাইসাইকেলে চড়েছে, সে চালাতেই পারবেনা যদি অন্য কেউ সাইকেলটি ধরে না রাখে।
~~~মাতৃগর্ভ থেকে কেউ বুদ্ধিমান/বুদ্ধিমতী হয়ে আসতে পারে অসম্ভব কিছু নয় তবে জ্ঞানী হতে পারবেনা। কারণ জ্ঞানটা তাকেই অর্জন করতে হবে নিজ দায়িত্বে। জ্ঞানীরা বুদ্ধিমান নাও হতে পারে জ্ঞানীদের আছে অসীম জ্ঞানের ভাণ্ডার। জ্ঞান হয় জ্ঞানশক্তি যা কাউকে দিলে কমেনা, চর্চায় কেবল বাড়তেই থাকে। এর জন্যে চাই অসীম ধৈর্য, আগ্রহ এবং চেষ্টা। জ্ঞান অর্জন করা ফরজ আপন জ্ঞানেই আপনাকে জানা জায়। সহজ উপায় হচ্ছে নিজের সাথে নিজে জপ সওয়াল করা।
~~~মনে প্রশ্ন নেই এমন লোক খুঁজেও পাওয়া যাবেনা। আছে সবার মধ্যেই কম বেশি প্রশ্ন আছে কিন্তু ধৈর্য ধরতে হবে যার তার কাছে আত্মদর্শন মূলক একটা প্রশ্ন হুট করে জিজ্ঞেস করা যাবেনা। যদি বিরক্ত করতে হয়ে তবে নিজেকে বিরক্ত করো, নিজেকে প্রশ্ন করতে করতে দেখা যাবে এক সময় নিজের ভেতর থেকেই সমাধান চলে এসেছে।
~~~অন্যের শেখানো বুলিতে কেউ জ্ঞানী হতে পারেনা, যদি নিজ ভাণ্ড পূর্ণ না থাকে। যেমন ভিক্ষের চালে শ্রাদ্ধ হয়না কোথাও না কোথাও টান পরবেই। মুখস্থ জ্ঞানেও কেউ গুরু হতে পারে না তাহলে ভক্তদের কাছে ধরা খেয়ে যাবে। ঘনিষ্ঠ কিছু ভক্ত আছে যাদের প্রশ্নের যবাব দিতেই হয়, সবাইকে ধমক দিয়ে বিদায় করা যায়না।
No comments:
Post a Comment