সূফিবাদের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে তা নিয়ে পণ্ডিতদের ভিতর মতবিরোধ লক্ষ্য করা যায়।সূফীবাদ কথাটি মুসলমানদের ভিতর থেকে কিভাবে এসেছে সেসব মতামতসমূহনিম্নঃরুপঃ
১. বেদান্ত ও বৌদ্ব দর্শনের প্রভাব
২. খ্রিষ্টনিয় ও নিও-প্লেটানিক প্রভাব
৩.পারসিক প্রভাব
৪.কুরআন হাদীসের প্রভাব
উপরের তিনটি মতবাদকে আভ্যন্তরীন মতবাদ বলা হয় আর শেষেরটিকে বাহ্যিক উৎস বলা হয়।এসকল মতবাদ নিয়ে নীচে আলোচনা করা হলঃ
১. বেদান্ত ও বৌদ্ব দর্শনের প্রভাবঃ পশ্চাত্যের কিছু চিন্তাবিদ তথা গোল্ডযিহার,এইচ মার্টেন এর মতে,সূফিবাদ বেদান্ত দর্ষন ও বৌদ্ব দর্শন হতে উদ্ভূত।কারণ,মুসলমানেরা যখনভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে এরপর থেকে ভারতীয় সন্ন্যাসী ও বেদান্ত বৌদ্বদের প্রভাবে প্রভান্বিত হয়ে মুসলমানগণ কঠোর সংযম ও কৃচ্ছতা সাধনের স্পৃহা জাগিয়ে তুলে।আর সে থেকে মুসলমানদের ভিতর সূফিবাদের উদ্ভব ঘটে। পারতপক্ষে এ ধরনের মতামত ঐতিহাসিক দৃষ্টিভংগী অনুযায়ী সঠিক নয়।কারণ ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানেরাআসার অনেক আগে থেকে সুফিবাদ কথাটির উদ্ভব ঘটেছিল।হাসান বসরী,যুন্নুন মিসরী,আবুল হাশিম কূফী,ইব্রাহীম বিন আদহাম রাবিয়া বিসরী প্রমুখ সূফিদের আবির্ভাব ওসাধনা প্রমাণ করে যে,সূফিবাদ ভারতীয় আমদানি নয়,ইসলামের আধ্যাত্মিক শিক্ষার ফলে সূফিবাদের উদ্ভব ঘটে।তাছাড়া বৌদ্ব সন্যাসীগণ জাগতিক কার্যক্রমলে সম্পূর্ণরুপেঅস্বীকার করে আর তার ধ্যান-সাধনার জন্য নির্জন জায়গা বেছে নিয়েছে।অন্যদিকে মুসলিম সূফী-সাধকগণ আল্লাহ পাকের ধ্যান করার সাথে সাথে সংসারও করে থাকেন। আবারবৌদ্ব ধর্মে নির্বাণ সত্তায় আত্মবিলোপ শেষ আর মুসলিম সূফিগণ ফানাকে শেষ স্তর বলে মনে করে না বরং তারা বাকাবিল্লাহকে সূফী-পথ পরিক্রমার সর্বশেষ স্তর মনে করে থাকে।সুতরাং,বৌদ্ব ও বেদান্ত হতে সূফিবাদের উৎপত্তি হয়েছে এ ধরনের মতবাদ সম্পূর্ণরুপে ভিত্তিহীন।
২.খ্রিষ্টিয় ও নিওপ্লেটিক মতবাদঃ অধ্যাপক নিকলশন ও ভনক্রেমার এ মতামত ব্যক্ত করেছেন যে, মুসলমানদের ভিতর সূফিবাদের আবির্ভাব ঘটেছে খ্রিষ্টিয় ও নিওপ্লেটিকমতবাদ হতে।তারা এ কথা অত্যন্ত জোড় দিয়ে বলেছেন যে, যখন মুসলিমরা মিসর,সিরিয়া,প্যালাষ্টাইন প্রভৃতি দেশ জয় করতে থাকে সে অবস্থায় খ্রিষ্টীয় চিন্তা-দর্শন মুসলিম চিন্তা-দর্শনের ভিতর আবির্ভূত হয় এবং এরই প্রভাবে তপস্যা ও সংযমবাদের অনুপ্রবেশ সূফীদের ভিতর ঢুকে আর সেই থেকে সূফিবাদের আবির্ভাব ঘটেছিল। নিকেলসন এ কথা অত্যন্তজোড় দিয়ে বলেছেন যে,সে সময় মুসলিম সম্রাজ্যের অনেক জায়গায় জাষ্টিয়ানদের আধিপাত্য ছিল আর সে থেকে সূফিবাদের উৎপত্তি হয়েছে।পারতপক্ষে এ ধরনের মতাবাদ সঠিকনয়।কারণ মুসলিম সূফি-সাধকগণ খ্রিষ্ট্রীয় সন্যাসীদের ন্যায় সংসার বিরাগী নয়।আর তাছাড়া মহানবী (সাঃ),সাহাবা ও তাবিঈদের সময় হতে এ ধরনের আধ্যাত্মিক সাধনায়মুসলমানেরা নিয়োজিত ছিল।তাই খ্রিষ্ট্রীয় ও নিউপ্লেটনিক মতবাদ হতে যে সূফিবাদের উদ্ভব ঘটেছে এ ধরনের কথা সম্পূর্ণরুপে অযৌক্তিক।
৩. পারসিক প্রভাবঃ ঐতিহাসিক ব্রাউনি আর তার কিছু অনুসারীরা বলেছেন যে,সূফিবাদের উৎপত্তি ঘটেছে পারসিক প্রভাব হতে।তারা এ যুক্তি সকলের সামনে তুলে ধরেছে যে,পারসিক জাতি ছিল এক অহংকারী ও দম্ভ জাতি।কিন্তু তাদের উপর যখন আরবেরা জয় করল তখন হতে তাদের ভিতরে এক ধরনের হতাশা কাজ করতে শুরু করল।সেখান থেকেতারা আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত থাকের ব্যাপারে এক ভিন্ন চিন্তা-ধারা আবিষ্কার করে আর সেখান থেকে সূফিবাদের আবির্ভাব ঘটে আর তারই ধারাবাহিকতায় পারস্যে অনেকদার্শনিক আবির্ভূত হয়।পারস্যের ভিতর যে ম্যানিকীয় ও ম্যাজদেকীয় ধর্মের অস্তিত্ব ভিতর সূফিবাদের কৃচ্ছতাপূর্ণ জীবন-যাপনের উপকরণ খুজে পাওয়া যায়। পারতপক্ষে এধরনের কথাও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।কারন বেশিরভাগ সূফী পারস্যের হলেও তার মানে এ বুঝায় না যে, সূফিবাদ পারস্য হতে এসেছে।কারন আবূ বকর ইবনুল আরাবীও ইবনুল ফরিদসহ অনেক দার্শনিক আরবীভাষী ছিলেন। আর আমাদের প্রিয়নবী (সাঃ),সাহাবীগণ ও তাবিঈগণের সময় হতে এক ধরনের তাপস্যা শুরু হয় এবং তারা বিদেশীধ্যান-ধারনা থেকে সম্পূর্ণমুক্ত ছিলেন।।
৪.কুরআন ও হাদীসের প্রভাবঃ সূফিবাদ যে কোন বাইরের চিন্তা-দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হয় নাই তা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।ইসলামী আধ্যাত্মিক শিক্ষার মূল উৎস হল আল-কুরআন।যদিও কুরআন ও হাদীসে সূফিবাদ শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করা হয় নাই তবুও কুরআনের অসংখ্য আয়াত ও রাসূল(সাঃ) এর অসংখ্য হাদীসের দ্বারা সূফিবাদ তথাআধ্যাত্মিক জ্ঞানের দিকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।ইবনে খালিদুন অত্যন্ত জোড় গলায় বলেছেন যে, সূফিবাদ এমন এক ধর্মীয় বিজ্ঞান যার উৎপত্তি খোদইসলাম হতে হয়েছে”। কুরআনের অসংখ্য আয়াত রয়েছে যার দ্বারা মরমীধারাকে ইসলাম বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে।সেখান হতে কিছু আয়াত নীচে উল্লেখ করা হলঃ
“তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে।”[বাকারাঃ২৫৫]
“তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক”[হাদীদঃ৪]
“তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।” [হাদীদঃ৩]
“আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী।”[ক্বাফঃ১৬]
“সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো”। [বাকারাঃ১৫২]
“যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব।” [আ্নকাবূতঃ৬৯]
“তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করবে,” [বাইয়েনাহঃ৫]
হাদীসের দ্বারা তাসাইফের কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়।একবার রাসূলে করীম (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ইহসান কি?তিনি উত্তরে বলেছিলেন, “ইহসান হল এ বিষয়যে,তুমি যখন নামায পড়বে তখন তুমি এ মনে করবে যে আল্লাহকে তুমি দেখছ আর তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে এই মনে করবে যে আল্লাহ তোমাকেদেখছেন”।
হাদীসে কুদসীতে বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি নিজেকে চিনল,সে আল্লাহকে চিনল”।
হাদীসে কুদসীতে আরও এসেছে যে, আল্লাহ বলেন, “যখন আমি আমার কোন বান্দাকে ভালবাসি তখন আমি তার ধ্যান-অনুধ্যানে ও কাজে কর্মে নিকটবর্তী হই।আমি তার চোখ হই যা দিয়ে সে দেখে,আমি তার কান হই যা দিয়ে সে শুনতে পায়,আমি তার হাত হই যার সাহায্যে বিভিন্ন জিনিস ধরে।”
অর্থাৎ,কুরআনে অসঅংখ্য আয়াত ও হাদীসের দ্বারা এ কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে সূফিবাদ কুরআন-হাদীস হতে নিঃস্বরিত এক ধরনের বাতিনী জ্ঞান।এ ছাড়াও আমরা এবিষয়টি লক্ষ্য করে দেখতে পাই যে, নবী করিম (সাঃ) হেরা গুহায় গভীর ধ্যানে নিমজ্জিত থাকতেন যার দ্বারা বুঝা যায় যে তিনি আধ্যাত্মিক জীবন সাধনায় প্রায় সময় ব্যস্তথাকতেন। নবী করীম (সাঃ) এর জীবদ্দশায় আহলে সুফফার কিছু লোক আল্লাহ পাকের ধ্যান সাধনায় এমন সময় ব্যয় করেছেন যার দ্বারা ধারনা করা হয় যে সূফিবাদ কথাটিরউৎপত্তি ঘটেছে। অতঃপর খুলাফায়ে রাশেদীনের সময় হযরত আবূ বকর(রাঃ),উমার(রাঃ),উসমান(রাঃ) ও আলী(রাঃ) প্রত্যেকে তারা শাসনকার্য পরিচালনার পাশাপাশি অসংখ্যইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্যস্ত থাকতেন। সৈয়দ আমীর আলী বলেন, “ আলী(রাঃ) এর মৃত্যুর সাথে খিলাফত ধংসব হতে থাকে আর দামেস্কে যেবর্বরোচিত অত্যাচার শুরু হতে থাকে সেখান থেকে কিছু মানুষ একান্তে ইবাদত বন্দেগী করতে বাধ্য আর সেখান থেকে অতীন্দ্রয়বাদ স্বাভাবিকভাবে অগ্রসরহতে থাকে”।
কুরআন ও হাদীসে সূফিবাদকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়েছে।তা হল ইলমে বাতিনী,ইলমে লাদুন্নী,ইলমে ইলমে তরীকত,ইলমে মারিফত ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়েছে।
সে সময় হতে হাসান বসরীসহ প্রমুখ তাবিয়ীর মাধ্যমে মরমীবাদ প্রকাশ হতে থাকে।উমাইয়্যা খিলাফত আমলে মানুষের বাহ্যিক চিন্তা-চেতনার এতটা বিকাশ ঘটে নাই যতটাবিকাশ ঘটেছিল আব্বাসীয়দের আমলে।সে সময় সূফিবাদের একটি চূড়ান্তরুপ লাভ করে।সে অর্থাত,হিজরীর ২য় শতকে এসে সূফিবাদ নামে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী মরমীধারার উদ্ভবঘটে।সে সময় যেসমস্ত কারনে সূফিবাদের উদ্ভব ঘটে তার প্রধান প্রধান কারনসমূহ নিম্নরুপঃ
(১)খলিফা হারুন-উর-রশিদের ইন্তেকালের পর তার দুই পুত্র আমীন ও মামুনের ভিতর যখন মতবিরোধ দেখা দেয় তখন এক বীভীষীকাময় রাজনোইতিক অবস্থা বিরাজমান ছিল।অন্যদিকে ইসমাইলীয়া,বাতিনিয়া ও কারামাতিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়ের অনুসারীগণ ধর্মের নামে অভীষ্ট রাজনীতির প্রচারণা চালাতে থাকে।এমতাবস্থায় কিছু লোকজন রাজনীতি থেকেকিছু মানুষ ইবাদতে ধ্যান-মগ্নে থাকার প্র্যাস পান এববগ এর ভিতর শান্তি তারা খুজে পেয়েছিল।
(২)আব্বাসীয়দের খিলাফতামালে মুতাযিলা সম্প্রদায়ের চিন্তা-চেতনার আবির্ভাব ঘটেছিল সেখানে মানুষের ভিতর এক ধরনের সংশায়াত্মক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল আরমুতাযিলাদের সাথে অন্যান্য গোষ্ঠির ভিতর যে দ্বন্দ্বের আবির্ভাব হয়েছিল তা থেকে পরিত্রানের জন্য কিছু লোক আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে শান্তি খুজেপাওয়ার প্রয়াস খুজে পেয়েছিল।
(৩)হানাফী,শাফিয়ী,মালিকি ও হাম্বলী মাযহাব যে আবেগ বর্জিত পরহেজগারিতা নিয়ে এসেছিল সে অবস্থায় সম্পূর্ণ আবেগধর্মী অবস্থার দিকে এক দল মানুষ ধাবিত হচ্ছিল।
তাহলে আমরা বলতে পারি যে,তাসাইফের উৎপত্তি প্রকৃতপক্ষে বাহিরের কোন চিন্তা-ধারনা থেকে নয় বরং কুরআন-হাদীস ও মুসলমানদের নিজস্ব চিন্তা-ধারাকে কেন্দ্র করে হয়েছে।মহানবী(সাঃ) এর জীবদ্দশায় এর উৎপত্তি ঘটেছিল যা
সূফিবাদের ক্রমবিকাশঃ
প্রকৃতপক্ষে সূফিবাদের আবির্ভাব মুহাম্মদ(সাঃ) এর সময় হতে শুরু হয়।অতঃপর যাকে সর্বপ্রথম মুসলিম সূফী হিসেবে চিহ্নতি করা হয় সে হল হযরত হাসান বিসরি(র.) তারজ্ঞানতত্ত্বের আলোকে সূফী-সাধকগণ সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তার ভিতর মরমী ও দার্শনিক চিন্তা-ধারার এক অপূর্ব মিলন ঘটেছিল।এছাড়াওসর্বপ্রথম সূফী হিসেবে যার নাম স্বীকৃতি দেওয়া হয় সে হল আবয় হাশিম কূফী।কেউ কেউ আবার জাবির বিন হাইয়্যানকে প্রথম সূফী হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন।এরপর হিজরীর২য় শতকে এসে সূফিবাদের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্বি পেতে থাকে।এ সময়ের উল্লেখযোগ্য সূফীগণ হলেন ইব্রাহীম বিন আদহাম,রাবিয়া বসরী,দাউদ আত-তায়ী ও ফুযায়ল বিনহাইয়ায প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।তাদের কার্যকলাপ ও বাণী থেকে আস্তে আস্তে কৃচ্ছতা জীবনে উদ্ভব ঘটতে থাকে।
এরপরে সূফিবাদের ক্রমবিকাশে যুন্নুন মিসরীর ভূমিকা ছিল ব্যাপক।তিনি ইসলামী মরমীবাদকে স্তভ হিসেবে স্থাপিত করেছিল।তাই তাকে সূফিবাদের সর্বপ্রথম ব্যাখ্যাদানকারীহিসেবে চিহ্নিত করা হয়।তিনি হাল ও মাকাম সম্পর্কে সূফী-সংক্রান্ত সূত্র প্রদান করেন।অতঃপর যুনায়েদ বাগদাদী যুন্নুন মিসরীর ধারনাকে আরো উন্নতি ও সুসংবদ্ব করেন।
কালক্রমে সূফিবাদের ভিতর সর্বেশ্ববাদের ধ্যান-ধারনা যুক্ত হতে থাকে।এ ধরনের মতাবাদের মূল প্রবক্তা ছিলেন বায়জীদ বোস্তামী ও মানসুর হাল্লাজ।তবে মানসুর হাল্লাজেরবক্তব্য কিছুটা বিতর্কিত ছিল যে জন্য তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।
অতঃপ্অর ইমামা আল গাযযালী এর সময় থেকে গোড়া সুন্নিবাদী মতবাদ সূফিবাদের ভিতরে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নেয়।তিনি গোড়া ইসলাম ও সূফিবাদের ভিতর একটিসুন্দর মিল তৈরী করেন।।তার সময় অনেল সূফীর আগমন হয় যার মধ্যে আব্দুল কাদির জিলানী,ফরিদ উদ্দিন আত্তার,আল-কুশাউরী,শিহাবুদ্দিন সোহয়ার্দীর নাম বিশেষভাবেউল্লেখযোগ্য।
সপ্তম হিজরীতে স্পেনে ইবনুল আরাবী সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তিনি সর্বেশ্বরবাদের প্রচলন করেন।তার তার প্রতিষ্ঠিত মতবাদের নাম ছিল“ওয়াহাদুল অজুদ”।তার এই মরমী ধারার ক্রমবিকাশে সাহায্য করেছিলেন জালালুদ্দিন রুমি (র.)।তার মসনবী শরীফ পৃথিবীর ইতিহাস এক অমূল্য গ্রন্থ হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতিলাভ করেছে।ইবনুল আরাবীর এই মতবাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রুকুনুদ্দিন আলাউদ্দৌলা একটি পৃথক মতবাদ গঠন করেন যা শুহুদিয়া নামে পরিচিত।তার এই সম্প্রদায়কেবাহাউদ্দীন বিশেষভাবে সমর্থন দিয়েছেন এবং হিজরী একাদশ শতাব্দীতে এ মতবাদটি ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে রাখে। পরবর্তীতে সূফী-সাধকদের ভিতরকাশানী,আলজিলি এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।অতঃপর ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক সূফীর আবির্ভাব ঘটে যাদের ভিতর খাজা মইনুদ্দিনচিশতী,বাহাউদ্দিন,শিহাবুদ্দিন,মুজ্জাদিদ আলফে সানীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।বিশেষ করে আলফে সানী সূফিবাদকে ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন করে উজ্জীবিত করেন।তিনিপ্রকৃতপক্ষে এ শুহুদিয়া সম্প্রদায়কে বিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।অতঃপর ১৮৩৭ সালে মুহাম্মদ বিন আলী ১৮৩৭ সালে আলজেরিয়াতে একটি পৃথক সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠাকরেন। এভাবে সূফিবাদের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় ক্রমবিকাশ হতে থাকে।
No comments:
Post a Comment