শরীয়াতের একটি অংশ হল তাসাউফ।তাসাউফ শরীয়াত হতে পৃথক কোন নতুন বিষয় নয়।যখন কেউ আন্তরিকতা সাথে শরীয়াতকে যথার্থভাবে পালন করবে তখন তার মাধ্যমেসে আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য লাভ করতে পারবে যাকে তাসাউফ বলা হয়।সুতরাং,সূফিবাদ এবং শরীয়াত পরস্পর বিরোধী নয়।বরং তা একে অপরের পরিপূরক।কেউ কেউ বলেথাকেন যে,শরীয়াতে সূফিবাদ বলে কিছুই নেই আবার কোন কোন বিদাআতপন্থী বলে থাকেন যে, সূফিবাদকে পালন করলে শরীয়াতের কোন প্রয়োজন হয় না।পারতপক্ষে দুই ধরনেরমতবাদ ভুল।তাসাউফের সাথে শরীয়াতে সম্পর্ক কি কি তা নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ
১.শরীয়াত আর সূফিবাদ পরস্পরের সহায়ক-সম্পূরকঃ শরীয়াত এবং সূফিবাদ পরস্পর বিরোধী নয় ব্রং একে অপরের পরিপূরক।এ ব্যাপারে কবি এলাহাবাদী বলেন,
“তাসাউফ হল বিচরণের পদক্ষেপ আর শরীয়াত হল পথ।শরীয়াত হল ভাষা আর তরীকত হল দিব্য দর্শন।”
তাই একে অপরের বিরোধী নয় ব্রং একে অপরের পরিপূরক।
২.দেহ ও রুহের মত সম্পর্কঃ দেহের সাথে আত্মার যেমন সম্পর্ক আছে তেমনি শরীয়াতের সাথে সূফিবাদের সে রকম সম্পর্ক আছে।আত্মিক পরিশুদ্বতার জন্য যেমন দরকারসূফিবাদ আর দৈহিক প্রশান্তর জন্য শরীয়াত।
৩.উভয়ের মধ্যে পূর্ণতা আসেঃ এই উভয় শিক্ষা অর্জনের ফলে পরিপূর্ণ ইলেম অর্জন করতে পারে। পারতপক্ষে একটি ছাড়া অপরটি লাভ করা অসম্ভভ।তাই ইমাম মালিক (র.)বলেছেন,
“যে ব্যক্তি ফিকহশাস্ত্র শিখল অথচ তাসাউফ শিখল না সে ফাসিক আবার কেউ তসাউফ শিখল আবার ফিকহশাস্ত্র শিখল না সে নাস্তিক। আর পূর্ণাংগ মানুষহল সে যে উভয় জ্ঞান লাভ করল।”
৪.নক্ষত্র ও চন্দ্রের মতঃ একটি হাদীসে তাসাউফের আলেমকে নক্ষত্র এবং শরীয়াতের আলেমকে চন্দ্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে।আব্দুল কাদির জিলানী(রঃ) বলেন, “তোমরাপ্রথমে শরীয়াত শিক্ষা কর।অতঃপর তাসাউফচর্চা কর।”
৫.ইবাদতের নিয়ম এবং নিষ্ঠাঃ শরীয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করার ন্যায়-নীতি সম্পর্কে জানা যায় আর তাসাউফচর্চার মধ্য দিয়ে ইবাদত পালনের সময় নিষ্ঠা ও ঐকান্তিকতাসৃষ্টির পথ সৃষ্টি হয়।অন্য কথায় শরীয়াত মানার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হল সূফিবাদ।
৬.বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীন দিক দর্শনঃ শরীয়াত মানুষের বাইরের বিষয় দিক নির্দেশনা দেয় আর তাসাউফ মানুষের আভ্যন্তরীন বিষয় দিক নির্দেশন দেয়।
উপরের আলোচনা থেকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, তাসাউফ এবং শরীয়াত একে অপরকে অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই।একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।তাই সূফি আকবরএলাহাবাদী বলেন
“যে তাসাউফ শরীয়া বিরোধী তা কুফরী ও বাতিকযোগ্য।কেননা শরীয়াতে যা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তাছাড়া আল্লাহকে পাওয়ার আর অন্য কোন পথ নেই।”
উপসংহারঃ
পরিশেষে বলা যায় যে, শরীর আর আত্মার সমন্বয়ে মানুষ।শরীরের যেমন খাদ্য প্রয়োজন,তেমনি আত্মার খাদ্য আল্লাহর ধ্যান-বন্দেগী করা।কাজেই ইলেম ও আমলের ক্ষেত্রে উভয়বিদ্যা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।তাই আমরা সকলে সূফী-সাধনায় নিয়োজিত থেকে আমাদের পার্থিব ও পরকালের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব।
No comments:
Post a Comment