Friday, September 18, 2015

সাধু ও সাধুসঙ্গ ১১, ১২, ১৩

সাধু ও সাধুসঙ্গ ১১:
বেদান্তে কয় এই রূপই সেই রূপ। আসলে তার কিবা কোন রূপ। আমি যেই রূপ দেখনা সেই রূপ। আমার মাঝেই সে আমাতে আছে মিশে !!
আমরা বাস্তব জগতে যেমন তিনভাবে চলতে পারি ঠিক তেমনি সাধন জগতেও তিনভাবে চলার পথ আছে ১) স্থলপথ ২) জলপথ ৩) শূন্য/আকাশপথ। সাধারণত স্থলপথকে সাধন জগতে ধরা হয় না। কারণ নিতাই কাউরে ফেলে যাবেনা, পথ চলতে থাকি একসময় না একসময় পথ শেষ হবেই, পায়ে হাঁটা পথ সময় সাপেক্ষ। যাদের মন অবচেতন হতে চেতনের ঘরে চলেগেছে তারা আর এই কথাতে শান্ত থাকতে পারেনা। কারণ সময় খুবই কম এই সময়ের মধ্যেই আমাকে ‪#‎জ্ঞানসাগরপাড়ি দিতে হবে। কেউ বেছে নেয় জলের পথ, কেউ বেছে নেয় আকাশপথ। হিসেব করলে এই দুটোই পড়েছে বস্তুবাদে ‪#‎জলআকার-সাকার এটা পদার্থ বিজ্ঞানের অংশ আবার ‪#‎আলোর_বিচ্ছুরণ অন্ধকারে আলোর সন্ধান এটাও পদার্থ বিজ্ঞানের অংশ। আরো এক দল আছে যারা ‪#‎ভাববাদীও না আবার ‪#‎বস্তুবাদীও না তারা ‪#‎খাস্তবাদী। তেলেসমাতি মূলক অলৌকিক যত কর্মকাণ্ড তাদের শোভা পায়। জয় গুরু...

সাধু ও সাধুসঙ্গ ১২: 
আকাশপথ (ধ্যান)
ধ্যানে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ভ্রমণ/ ধ্যানেতে দিদার
যে আরো দ্রুত বেগে চলতে চায় তার জন্যেই আকাশপথ তথা ধ্যানের জগত (ধ্যানে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ভ্রমণ)। সপ্ততলা ভেদ করিলে, হাওয়ার ঘরে যাওয়া যায়। হাওয়ার ঘরে গেলে পরে, অধর মানুষ ধরা যায় (ফকির লালন সাঁই)। সকল কর্মকাণ্ড হতে নিজেকে শূন্যে নিয়ে আসা, যোগাসনে বসা এবং এক যায়গায় বসে তেজরশ্মি বেগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ভ্রমণ করা। নিজেকে শূন্যে নিয়ে আসতে পারলে আরেক শুন্যের সাথে সাক্ষাৎ হবে, শুধু শূন্য নয় মহা শূন্য। বিজ্ঞানের যুগে প্রথমে '১' হতে '৯' পর্যন্ত আবিষ্কার হয়েছে। তারপর যখন দেখল যে আর সামনে যাওয়া যাচ্ছেনা তখন সবশেষে '০' আবিষ্কৃত হল। কিন্তু আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদদের মধ্যে অনেকেই তা বলেনা তাদের মতে পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বেই শূন্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে '০' তার পরে '১' এই শূন্য এবং এক মিলেই গোটা বিশ্ব শোভিত হয়েছে। প্রতিটা মানুষের দেহ একেকটা ক্ষুদ্র পৃথিবী। দেহজগত দর্শনের মধ্য দিয়েই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দর্শন হবে, স্রষ্টার দর্শন হবে। পন্থা খুবই সহজ কিন্তু অসীম ধৈর্যের পরিক্ষা দিতে হয়। কিঞ্চিৎ ধ্যানে মহাদেব, সে তুলনা কি আর দেবো, লালন বলে গুরু ভাবো, যাবে রে মনের ধোঁকা।

সাধু ও সাধুসঙ্গ ১৩:
সঠিক গুরু নির্বাচনের জন্যে অপেক্ষা করাই উত্তম। আমরা গুরু বলতে যে রকম ভেবে নিয়েছি তাতে করে বর্তমান বাজারে ধরা খাওয়ার ভয় আছে। চারিদিকে সব ভণ্ডের আনাগোনা তাদের বেশভুষন দেখলেই মাথা ঘুরে যাবে। কে যে আসল গুরু আর কে যে নকল গুরু তা নিরূপণ করাটা কঠিন। সবাই নিজেকে উপরের কাতারের লোক হিসেবেই জাহের করতে সদা ব্যাস্ত। সুতরাং

১) গুরু যে আপনার ধর্মেরি হতেহবে এই ভাবনাটা আগে বাদ দিতে হবে
২) আপনার দরকার একজন সিদ্ধি গুরু, সুতরাং লক্ষ্য একটাই সিদ্ধি গুরু
৩) আপনাকে সরাসরি জ্ঞানবাজারে নেমে পড়তে হবে। বাজারে জ্ঞান ক্রয় বিক্রয় চলবে, আপনার মধ্যে আত্মদর্শনের চেতনা চলে আসবে। শত শত প্রশ্ন আপনার ভেতর হতে উদয় হবে, মন থাকবে সদা উতলা।
৪) যার নিকটে গেলে আপনার সকল প্রশ্নের জবাব মিলবে যার নিকটে গেলে আপনি শান্তি পাবেন সেই হবে আপনার ‪#‎গুরু।
৫) গুরু দুই প্রকারেরই হতে পারে ‪#‎জ্ঞানসিদ্ধ ‪#‎বাকসিদ্ধ। জ্ঞানসিদ্ধ গুরু আপনি পাবেন তবে বাকসিদ্ধ নাও পেতে পারেন। জ্ঞানসিদ্ধরা সঠিক পথের সন্ধান জানে তারা বলে দেবে এভাবে যাও। আর বাকসিদ্ধরা মুখে যা বলবে তাই হবে এর কোন পরিবর্তন হয় না। ধর্ম যাই হোক আধ্যাত্মিক পন্থা সবই এক। দেহের বাহিরে কিছু নেই।

No comments:

Post a Comment