Friday, September 18, 2015

গুরুঃ

গুরুঃ
গু = অন্ধকার, রু = আলো, গুরু/গুরুজী শব্দটি একটি ফার্সি শব্দ। গুরু কারো নাম নয় কর্ম গুণে ভূষিত উপাধি যিনি আপনাকে অন্ধকারের পথ হতে আলোর পথ দেখাতে সাহায্য করেন তিনিই হচ্ছেন গুরু...(গুরুজী)। গুরুর দায়িত্ব অনেক, শিষ্যদের প্রশ্নে বিরক্ত হলে চলবে না গুরুদায়িত্বও ছাড়া যাবে না। জ্ঞান কারো নিজের সম্পত্তি নয় জ্ঞান হচ্ছে ঐশী, সুতরাং কেউ চাইলে তাকে জ্ঞান দিতে হবে এবং অবশ্যই তা পাত্র ভেদে। কারণ সবাইকে সকল জ্ঞান দেয়া যায় না, তাকে জ্ঞান নেয়ার মত যোগ্য হতে হয়। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় পঞ্চম শ্রেণীর একজন ছাত্র/ছাত্রী যদি কৌতুহল বসত না বুঝেই ডিগ্রী শ্রেণীর একটি প্রশ্ন করে বসে কোন শিক্ষিককে তখন তার কি করা উচি? সে কি জবাব দেবে নাকি শিক্ষার্থীকে সান্ত্বনা দিয়ে বিদায় করে দেবে? গুরু হওয়ার অনেক জ্বালা কিন্তু শিষ্যরা তা বুঝে না অযথাও বিরক্ত করে গুরুর সময়ের অনেক দাম শিষ্যদেরকে শিক্ষা দান করা ছাড়াও গুরুর অনেক কাজ থাকে তার নিজের। এর একটা কারণ আছে তা হল শিষ্যরা সব সময় থাকে হতাশার মধ্যে যখন তারা বুঝে যায় যে সময় খুবই কম কিন্তু গন্তব্য অনেক দূরে। হাঁয়, আমার এখন কি হবে উপায়। সময় গেলে সাধন হবে না...
সাগর বস্তুগত তরল জলময়। সাগর অবস্তুগত নিরাকার জ্ঞান সাগরঃ
সাধকের সাধনার জোরে
সেই সাগরে নেয় মন্থন করে
সাধলে পরে যাবি ত্বরে
না সাধলে আনাড়ী ।। (ফকির লালন সাঁই)
সাগর বস্তুগত তরল জলময়। সাগর অবস্তুগত নিরাকার জ্ঞান সাগর। ত্রিবেণী মন্থনে তিনটি সাগর মিলে ১) গরল ২) সুধা ৩) মধু। অন্যদিকে জ্ঞানেরও তিনটি স্তর। সাধনার কথা ভাবলে অনেক কিছুই সামনে আসে আর যদি অতি সাধারন ভাবে সহজ করে ভাবি তাহলে জ্ঞানের উপরে আর কিছুই নেই। জ্ঞানের বলেই প্রভুর দর্শন লাভ হবে। এতে যে নারী সেও একাই যথেষ্ট আবার যে পুরুষ সেও একাই যথেষ্ট সব কিছুই নির্ভর করে যার যার জ্ঞানের উপর। বস্তুবাদে নারীপুরুষ একে অপরের উপর নির্ভরশীল একজন ছাড়া আরেকজন অচল সাধন ভজন কিছুই হবেনা। আবার ভাববাদে নারীপুরুষ সবাই একজনের উপরেই নির্ভরশীল সে হচ্ছে পরম স্রষ্টা, সবার মুখ ঐ এক দিকেই। ভাববাদ এবং বস্তুবাদ একে অপরের উপর ৯০ ডিগ্রী এঙ্গেলে দণ্ডায়মান, কারো চেয়ে কেউ কোন অংশে কম নয়। ভাববাদে যতগুলো দেবদেবী অবতার মিলে বস্তুবাদেও ঠিক ততগুলো দেবদেবী অবতার মিলে।
যারা জ্ঞানের পথে হাঁটতে চান তারা দয়া করে জ্ঞানের কোন প্রশ্ন অন্যকে করবেন না, চেষ্টা করুন নিজেই খুঁজে বেড় করতে। তাহলেই সঠিক জ্ঞান পেতে পারেন। কে দেবে এই জটিল প্রশ্নের জবাব, সবাইতো জবাব চায়। পন্থা একটাই তা হচ্ছে জ্ঞান চর্চা। চর্চা করতে করতে গভীরের কিছু সত্য বেড় হয়ে আসবে। মানব জনমটা হচ্ছে খুবই দুর্লভ একে বৃথা যেতে দেয়া যায় না, ঠিক না। মহা সাধক ‪#ভবা_পাগলা বলেগেছেন (এমনও মানব জনম আর হবেনা বারে বারে আর আসা হবেনা...)। কিন্তু তারচেয়েও বড় কথা সময় খুবই কম। চোখের পলক পড়তে যতক্ষণ জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত সময় ততক্ষণ...
জ্ঞানে ঈশ্বর - ধ্যানেতে দিদার - ধনে ফকিরি

নারীরা সাধন ভজন এবং ইবাদতে পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রসরঃ

নারীরা সাধন ভজন এবং ইবাদতে পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রসর। তারা তাদের কোমল হৃদয় দিয়ে খুব সহজেই এবং কম সময়ে ঈশ্বরের অতি সন্নিকটে যেতে পারে। যারা সূফী তারা গুরুর দর্শন লাভ করে ধ্যানে আর যারা আধ্যাত্মিক সাধিকা তাদের ধ্যানেও একজন গুরু অলৌকিক ভাবে হাজির হয়। কিন্তু নারীরা খুব দ্রুতই আবার পিছিয়ে যায় সাধনে। এর কারণ হচ্ছে তাদের কোমল মন। কিছুটা আধ্যাত্মিকতা লাভ করলেই অপরকে বলতে থাকে গুপ্ত অলৌকিক ঘটনাটুকু। নিয়ম হচ্ছে যার পরামর্শে সাধনা চলে তাকে ছাড়া আর কাউকেই কিছু বলা যাবেনা। যদি বলে দেয় তবে যতটুকু জাগ্রত হয়েছে ততটুকু আবার পিছিয়ে যাবে। তারা এগুলো জানে এবং জেনেশুনেই ভুল করে।

No comments:

Post a Comment