Thursday, October 1, 2015

মুয়াবিয়ার রাজতন্ত্র

মুয়াবিয়ার রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও খেলাফত উচ্ছেদঃ
ক্ষমতা মুয়াবিয়ার হস্তগত হলে ইসলামী খেলাফত এর অবসান ঘটে এবং রাজতন্ত্রের সুত্রপাত ঘটে। মুয়াবিয়ার বায়াত এর পর সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস মুয়াবিয়ার উদ্দেশে বলেন- হে রাজা আপনার প্রতি সালাম। (ইবনুল আসির ৩য় খণ্ড) মুয়াবিয়া নিজেও বলেছেন আমি মুসলমান দের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজা। (আলবিদায়া ওয়ান নেহায়া ৮ম খণ্ড) হাফেজ ইবনে আসীর বলেন-মুয়াবিয়া কে খলিফা না বলে রাজা বলা সুন্নত। কারন মহানবী সাঃ বলেন আমার পর ত্রিশ বছর খেলাফত থাকবে অতঃপর বাদশাহির আগমন ঘটবে। হিজরি ৪১ সালে ইমাম হোসেন আঃ এর খেলাফত ত্যাগের মাধ্যমে সে মেয়াদ পূর্ণ হয়। ( দেখুন আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৮ম খণ্ড মুয়াবিয়াকে ইমাম হাসান এর হত্যাকারী উল্লেখ করে আল্লামা আব্দুর রহমান জামি রাঃ তার বিখ্যাত কিতাব শাওয়াহেদূন নবুয়ত কিতাব এ লিখেন –হযরত ইমাম হাসান আঃ কে মুয়াবিয়ার আদেশেই তার স্ত্রীর মাধ্যমে বিষ দেয়া হয়েছিল। বিশিষ্ট সাহাবা হাজর ইবনে আদি রাঃ কে জীবিত দাফনঃ মুয়াবিয়ার নির্দেশে ৭০ হাজার এর অধিক মসজিদ এ যখন মওলা আলী আঃ ও তার পবিত্র বংশধর দের গালিগালাজ ও অভিসম্পত দেয়া হচ্ছিল তখন হযরত হাজর ইবনে আদি কুরআন ও হাদিস থেকে শেরে খোদা মওলা আলীর শানে বর্ণিত তা পাঠ করতে লাগলেন। অতঃপর মুয়াবিয়ার নির্দেশে হাজর বিন আদি রাঃ ও তার সাত জন সঙ্গিকে হত্যা করা হয় অত্যন্ত নির্মম ভাবে। মুয়াবিয়ার নির্দেশে তাদের কে জীবিত মাটিতে পুতে মারা হয় যাতে কেও মুয়াবিয়ার আদেশ অমান্য করার সাহস না পান।( এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরন তাবারী ৪র্থ খন্ড,ইবনুল আসীর ৩য় খণ্ড,আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৮ম খন্দ,ইবনে খালদুন ৩য় খণ্ড) এই নির্মম হত্যা কাণ্ডের পর আবুল আওলিয়া হযরত হাসান বসরি রাঃ অভিমত প্রকাশ করেন যে, এ অহেতুক হত্যাকাণ্ডের কারনে মুয়াবিয়ার নিষ্কৃতি নেই। ( ইবনুল আসীর ৩য় খণ্ড, আল বেদায়া ৮ম খণ্ড) এই ঘটনা থেকে বিরত থাকার জন্য হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ আগেই পত্রের মাধ্যমে নিষেধ করেছিলেন কিন্তু মুয়াবিয়া হযরত আয়েশার এই কথা শুনেন নি। পরে হযরত আয়েশা রাঃ মুয়াবিয়ার সাক্ষাতে আসলে বলেন –হে মুয়াবিয়া তুমি হাজর কে হত্যা করতে গিয়ে আল্লাহকে একটুকুও ভয় করলা না? (বিস্তারিত দেখুন আল ইস্তিয়াব ১ম খণ্ড, তাবারী ৪র্থ খণ্ড) এই সব মুনাফিক হত্যাকারী দের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ কুরআন এ বলেন- কোন মুসলমান কে যে স্বেচ্ছায় হত্যা করবে তার শাস্তি দোজখে এবং সেথায় সে চিরস্থায়ী হবে, তার উপর আল্লাহর লানত (সুরা নেছা ৯৩)বায়তুল মালের অপব্যবহারঃ বায়তুল মাল হচ্ছে খলিফা বা সরকারের নিকট আল্লাহ্‌ ও জনগনের আমানত। অথচ মুয়াবিয়া রাজা হবার পর বায়তুল মাল কে নিজের মালে পরিনত করেছেন। বায়তুল মালে জনগনের অধিকার বলতে কিছু ছিল না। তিনি তার ইচ্ছা মোতাবেক ভোগ ও বণ্টন করতেন। বায়তুল মালের হিসাব চাওয়ার অধিকার কারো থাকল না। জনগণ কে নির্ভর করতে হত বাদসার দান দাক্ষিণ্যর উপর। (ইবনুল আসীর ৪র্থ খণ্ড,আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৯ম খণ্ড) নও মুসলিম দের উপর জিজিয়া করঃ ইসলামের বিস্তার এর ফলে মুসলমান বেড়ে যায় ফলে জিজিয়া কর কমে যায়। তাই বায়তুল মাল এর আয় হ্রাস পায় যা মুয়াবিয়ার ভোগ বিলাস এ ব্যঘাত সৃষ্টি হয়। তাই মুয়াবিয়া নও মুসলিম দের মধ্যে জিজিয়া কর আরোপ করা হয়। যা সম্পূর্ণ কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। সাধারন মানুষের ইসলাম গ্রহন এর চাইতে ও মুয়াবিয়ার ধন সম্পদ বৃদ্ধি করাই ছিল তার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। (ইবনুল আসীর ৪র্থ খণ্ড) মুয়াবিয়া কুরআন এর আদেশ লঙ্ঘন করে গনিমত এর মালের মূল্যবান সোনা চাঁদি নিজেই রেখে দিতেন। (আত তাবারী, আল ইস্তিয়াব ১ম খণ্ড, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৮ম খণ্ড

আত্ম সংশোধন

আত্ম সংশোধন
"ক্বলব একটি মাংসের টুকরা, উহার ভিতরে পেট অাছে, এমন কি উহার ভিতরে ৭টি পেট রহিয়াছে" ৷ অর্থাৎ ক্বলব যদিও স্থূল জগতের অন্তর্গত একটি মাংসের টুকরা, এর ভিতরে সূক্ষ্ম জগতের অংশ
৭টি স্তরে বিরাজ করে ৷
১. ছুদুর ৷
২. নসর ৷
৩. সামছী ৷
৪. নূরী ৷
৫. কোরব ৷
৬. মাকীম ও
৭. নফসী ৷
ক্বলবের সূক্ষ্ম এই ৭টি স্তর মর্যাদায় স্থূল দেহের চেয়ে উর্ধ্বে ৷ এগুলির একে অন্যের মধ্যেও অাবার মর্যাদার তারতম্য রয়েছে ৷ নফসী স্তরের মর্যাদা সবার উর্ধ্বে ৷ ছুদুরের স্তর রিপুর তাড়নাযুক্ত বলেই এটাকে শয়তানের বাসস্থান বলা হয়েছে ৷ অপর দিকে নফসীর স্তরে অাল্লাহতা'লার জাত পাকের নূর বিরাজ করে ৷ অাল্লাহকে পাওয়ার সাধনায় সাধককে ক্বলবের এই সূক্ষ্ম স্তরসমূহ একে একে অতিক্রম করে "নাফসীর মাকামে" অাল্লাহর সাথে মিলিত হতে হয় ৷ স্থূল জগতের সাথে সম্পর্কিত ক্বলবের প্রথম স্তর রিপুর তাড়নাযুক্ত থাকে ৷ মহামানবের অর্থাৎ অাপন মুর্শিদের নিকট হতে ফায়েজ হাসিল করে অাপন হ্নদয়ের রিপুসমূহ 'সাফা' অর্থাৎ পরিশুদ্ধ করে, তথা— এদের কু - খায়েশ দূরিভুত করে সাধক তার ক্বলবের প্রথমস্তর ছুদুরের অাধিপত্য লাভ করে ৷ এভাবে সে তার জীবাত্মা (নফস) কে পরমাত্মার(রুহের) সহায়তায় বিশ্ব অাত্মার সাথে মিলন তথা বিশ্ব রবে'র সাথে মিলন লাভের যোগ্যতা সম্পন্ন করে তোলে ৷৷

তাসাউফ শিক্ষা

লা'মকাম হচ্ছে মহাশূন্য জায়গা. লা-- নাই., মকাম-- ঘর......মহাশূণ্য ভাব, ঊর্ধআকাশ… যেখানে নাই চাঁদ, নাই সূর্য, নাই কোন ভবের চিন্তা. অর্থ্যাৎ লা ইলাহা- নাই কোন কিছু। এই মকাম পারি দিতে পারলেই. শান্তিময় নুরের মকাম. এই নুরের মকাম সিদ্ধ হলেই আপনগুরু ৭০ হাজার নুরের পর্দা থেকে বের হয়ে ভক্তের সাথে দর্শন হয়...তখন ভক্ত আর গুরু দুজনই এক হয়ে যায়..যেমনঃ (তুমি) আর (আমি) /আমি আর তুমি.........এখান থেকে যদি (আর) কথাটা উঠানো হয় তাহলে হবে (তুমিই আমি) ...(আমিই তুমি)....কিন্তু নফস এতই শক্তিশালি আমাদেরকে লা মকামে যেতে হাজার বাধা খাড় করিয়ে দেয়. যেকারনে লা' মকামে পৌছানো যায়না.....দেহের ভিতরে ছয়রিপু, ১০ ইন্দ্রিয় এর পতন...করা আপন গুরুর দয়া বিনে কেউ করতে পারেনা...কি ভাবে পতন করতে হবে সেই কৌশল একমাএ আপনগুরুই জানে...গুরু একজন ভক্তকে খানা মুখে তুলে দিতে পারে কিন্তু চিবানোর দায়িত্ব ভক্তের.... ভক্তের আত্মউন্নির জন্য গুরুকে কঠোর তপস্যা করতে হয়…তায়াজ্জোর মাধ্যমে, গুরু বিনা মানুষ হওয়ার কোন সুযোগ নেই অনেক ভেবে, অনেক দেখে, আমি .......বলি। আর এই নফসকেই বশিভুত করার জন্যই কুম্ভক. রেচক. পরিপুরক. জিকির. জ্ঞানযোগ. কর্মযোগ. ভক্তিযোগ. রাজযোগ. নিদিধ্যান. ধ্যানযোগ.মোরাকাবা. মোশাহেদা. দশলতিফা. ফানাফিন্নাস, ফানা ফিশ শায়েখ. ফানা ফির রাসুল. ফানা ফিল্লাহ্ . বাকা বিল্লাহ্ এবং গুরুনাম ইত্যাদি সাধনা করা হয়।
হযরত হাসান বসরী (রাঃ) বলেন: ‘নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা একটি পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রণ করা থেকেও কঠিন।’ সুতরাং বুঝা গেল নফসকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কত কঠোর সাধন ও ভজন করতে হবে। আর মাওলার দর্শন সে তো অনেক কিচ্ছা-কাহিনীর পর,অনেক দূরের কথা । কঠোর কৃচ্ছসাধনার পরও হয়তবা দয়ালের দেখা পাওয়া যায় না, যদিও কোটিতে গোটিমিলে শুধুমাত্র তাঁর দয়াবিনে। মানবজীবন খুবইঅল্প সময়। এই সময়টাকে সঠিক কাজে ব্যায় করা দরকার। আর সেই সঠিক কাজটা হল আত্মার উন্নতি। যদিও আত্মাকে শাস্তি দেয়া যায় না। কারন শাস্তি পাওয়া আত্মার গুণবর্হিভূত। তবুও আত্মা শাস্তি পায়। (যা ভেদরহস্য এ বিষয় কিছু লিখবনা) । ‘‘আমরা আল্লাহ্ এবাদত-বন্দেগী বা গোলামী করতে আসি নাই, এসেছি তাঁর প্রতিনিধি হয়ে। আর মনিব থেকে একেবারে হয়ে গেলাম গোলাম।’’ এমনকথা আমি না কোরানে কয়। একটা কথা বলি কেউ মাইন্ড করবেন না। লিখাটা পড়ে ভাল না লাগলে,সমালোচনা করবেন না। যদিও আমার লিখালিখি করা উপর থেকে নিষেধ। তবুও একটা কথা লিখলাম আপানাদের উপর আস্তারেখে…কিসের বেহেশত আর কিসের দোজক। এইসব ……..(বাচ্চাদের চকলেট দিয়ে শান্ত রাখার মত) আর লিখলাম না। আসল হল প্রেম যা আত্মায় আত্মায় মিলন। রূহের গুণে গুণান্বীত হওয়া। আত্মার উন্নতি করেন। তাছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। ‘‘যতক্ষন পর্যন্তনা আপনি আপনার রবকে দেখতে পারছেন, ততক্ষন পর্যন্ত কোন কাজে আসবেনা আপনার এবাদত-বন্দেগী, সব ডাষ্টবিনে ছুড়ে ফেলা হবে।’’ এমন কথা আমি না কোরআনে কয়। আপনি হয়তো মনে করতে পারেন যে, কলিমা,নামাজ,রোজা,হজ্জ,যাকাত ইত্যাদি সব ভালকাজ করে গেলেই চলবে। শুধু তাই সঠিক হবে না বলে মনে হয় আমার। রূহের রং আর আপনার রং যতক্ষন না এক রং ধারন করে ততক্ষন আপনার মুক্তি নেই। সুতরাং তাঁকে দেখতে হবে, দেখার চেষ্টা করুন।

মানবদেহে নফছের অবস্থা

মানবদেহে নফছের অবস্থা ৭টিঃ
১।নফছে আম্মারা অর্থাত্ অসংযমী নফসঃ যে নফছ নিজের ইচ্ছামত কাজ করে থাকে, আল্লাহর আদেশ উপদেশ কিছু মানেনা তাই নফছে আম্মারা।
২।নফছে লাওয়ামা অর্থাত্ মালামতকারী নফছঃ যে নিজের কৃত পাপের জন্য অনুতাপ করে থাকে ও নিজেকে নিজে তিরস্কার করে থাকে তাই নফছে লাওয়ামা।
৩।নফছে মোতমাইন্না অর্থাত্ শান্তিপূর্ণ নফছঃ যে নফছ সকল প্রকার গুনাহ হতে পাক পবিত্র হয়ে যায় ও সর্বাবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় তাই নফছে মোতমাইন্না।এ ধরনের নফছ সর্বসময় আল্লাহর ইচ্ছার উপর সন্তুষ্টি থাকে এবং তাঁর শোকরিয়া আদায় করে।
৪।নফছে মোলহেমা অর্থাত্ এলহাম হোনেওয়ালা নফছঃ যে নফছ সকল প্রকার গুনাহ হতে পাক পবিত্র হয়ে যায় এবং আল্লাহর তরফ থেকে এলহামপ্রাপ্ত হয় তাই নফছে মোলহেমা। যতক্ষণ পর্যন্ত নফছে আম্মারা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত নফছ নাপাক থাকে।যখন নফছ হতে খারাপ জিনিসগুলো দূর হয়ে যায় তখন তা পবিত্র হয়ে পরমাত্মার সাথে মিলিত হয়।সাধনার এক পর্যায়ে গিয়ে তা ফানাফিল্লাহ, বাকাবিল্লাহর মকামে গিয়ে পৌঁছে। নফছের এই গতিবিধি ও পরিচয় জেনে সেমতে আমল করে সফল হবার জন্য কামেল পীরের বাইয়াত

Sunday, September 20, 2015

আত্মা কি?আত্মা পরিশুদ্ব করার উপায় আলোচনা কর।

আল্লাহ সুবাহানাওতায়ালা বলেন,
এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁক দেব ”[হিজরঃ২৯]
মানুষ আত্মা এবং দেহের সমন্বয় গঠিত।একে অপরের ছাড়া অচল।দেহ মানুষের বাহ্যিক বিষয় তাই এর ভুল-ত্রুটি সর্বদা আমাদের দৃষ্টিতে পড়ে।আর মানুষ দৈহিকভাবে রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ তার চিকিৎসাকরায়।কিন্তু এই মানুষের দেহ কেবল মাত্র এই দুনিয়ার জীবনের জন্য আর আত্মা মানুষের আখিরাতের জীবনের সাথে সংক্লিষ্ট।আত্মিক চিকিৎসা দৈহিক চিকিৎসার পাশাপাশি অপরিহার্য একট বিষয়।আর এটাবাতিনিভাবে করতে হয়।কেউ যদি আত্মাকে পরিশুদ্ব করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে আখিরাতে কাংখিত সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হবে।তাই আত্মার পরিশুদ্বতা অর্জন করা একান্তভাবে অপরিহার্য একটি বিষয়।আরএকেই বলা হয় আত্মিক পরিশুদ্বতা।আত্মা কি,তার উপায় এবং তার প্রয়োজনীয়তে সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হলঃ
আত্মার আভিধানিক অর্থ
আত্মা অর্থ হল দেহবিশিষ্ট চৈতন্যময় সত্ত্বা,অধিদেবতা,স্বরুপে স্বয়ং,অন্তর্নিহিত শক্তি,প্রাণের মধ্যবিন্দু,কেন্দ্রবিন্দু,প্রাণকে চঞ্চল করে তুলে এমন উজ্জীবক,গভীর অনুভূতিকে জাগ্রত করে এমন ,soul, immortal part of the body, ego, essence ইত্যাদি।আরবী ভাষায় একে রুহ এবং কলব বলা হয়
মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায় আত্মা হল মন।দর্শনে soul, mind, self. বুৎপত্তিগত অর্থে যা পূর্ব অভিজ্ঞতায় স্মরণ রাখতে পারে তাই হল আত্মা
আত্মার পারিভাষিক সংজ্ঞা
আত্মার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে কেউ কেউ বলেছেন মানবদেহে যে প্রবাহমান রক্ত সেই রক্ত হল আত্মা
আবুল হায়সাম বলেন, “আত্মা এমন বিষয় যা মাধ্যমে মানুষ শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করে।যা মানুষের ভিতর হতে বের হয়ে গেলে মানুষ মারা যাবে।
আল-ফাররার মতে, “আত্মা হল এমন বস্তু যার উপর মানুষের জীবন নির্ভরশীল।
ইমাম গাযযালী(রঃবলেন, “আত্মা হল মানুষের দেহ সংক্লিষ্ট এবং দেহোত্তীর্ণ আধ্যাত্মিক সত্ত্বা।
ইবনুল আরাবীর মতে, “আধ্যাত্মিক জ্ঞানলাভের উপায় এবং মাধ্যম হল আত্মা।
আল্লামা ইকবাল বলেন, “আত্মা হল এক ধরনের বাস্তব সত্তা যাকে অতীন্দ্রীয়ানুভূতির মাধ্যমে জানা যায়।
সারকথা হল এই যে,আত্মা এমন এক বিষয় যা চিরন্তন,অমর,অবিনশ্বর,অদৃশ্য এবং সর্বত্র বিরাজমান এবং যা মানুষের প্রাণশক্তিকে সঞ্চার করে। আত্মার প্রকারভেদ দার্শনিক এবং বৈজ্ঞানিক মতে আত্মা তিন ধরনের হয়।তা হল
()রুহে হায়াতীঃ   আত্মার অবস্থান হৃৎপিন্ডে।এর সাথে তার জীবন এবং তার স্বস্তি এবং সুস্থতা সম্পর্কিত
()রুহে তবয়ীঃ এর অবস্থান রক্ত।এর মাধ্যমে মানুষের  শক্তি,সামর্থ্য এবং কর্মক্ষমতা সংক্লিষ্ট
()রুহে নাফসানীঃ এর অবস্থান মাথা।এই রুহ হল অনুভূতি এবং চেতনার মূল
ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আত্মা তিন প্রকারের হয়।তা হল রাওমামা,আম্মারা এবং সুদৃঢ় আত্মা
ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে আত্মা তিন প্রকারের তা হলঃ
.মুয়াম্মারা                                
.মুতমাইম্মা                   
.লাওয়াম্মা
আত্মার স্তরসমূহ
আত্মার স্তর হল তিনটি যা হল রুহে আযীম,রুহে কুদ্দুস এবং রুহে নফস
আত্মশুদ্বি
আত্মশুদ্বিকে আরবী ভাষায় তাযকিরাতুন নফস বলা হয়।এখানে তাযকিরাতুন কথাটি ঝায়িয়ুন হতে নির্গত হয়েছে যার অর্থ হল পবিত্র,নিষ্পাপ।আর তাযকিরাতুন অর্থ হল পরিশুদ্ব করা,পাক করাউদ্বুদ্ব করাএবং উন্নত করা। আর নফস এর অর্থ হল আত্মা। আত্মার পারিভাষিকে সংজ্ঞস নিম্নরুপঃ
আত্মশুদ্বি এমন একটি বিষয় যার দ্বারা আত্মাকে সংশোধন করা যায়,আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় এবং তার মারিফত অর্জন করা যায়।
পারতপক্ষে আত্মশুদ্বি ছাড়া কখনও একটি মানুষ ভাল মানুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না
আত্মশুদ্বির উপায়সমূহঃ
আত্মাকে বেশ কয়েকটি অবস্থায় বিশুদ্বতা অর্জন করা যায়।যেসকল বিষয় আত্মিক পরিশুদ্বতা অর্জন করা তা হল নিম্নরুপঃ
ঈমান পরিশুদ্বকরনঃ তাযকিয়াতুন নফসের চাবি হল ঈমান।আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনলে আত্মশুদ্বি হবে না।ঈমানদারদের জন্যেই আত্মশুদ্বি।কাফিরদের জন্য আত্মশুদ্বি নয়।সত্যিকারের আত্মশুদ্বি অর্জনকরতে হলে ঈমানকে তাজা এবং শক্তিশালী করতে হবে।আর এই ঈমানকে তাজা করার জন্য ইলেম অর্জন করতে হবে।ইলম ছাড়া ঈমান কখনও তাজা হবে না।আল্লাহ বলেন,
পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।পাঠ করুনআপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু,  যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষাদিয়েছেনশিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না [আলাকঃ১-]                                                    
তাকওয়াঃ তাকওয়া শব্দের অর্থ হল আল্লাহকে ভয় করা,সাবধান থাকে,সতর্ক থাকা,বিরত থাকা ইত্যাদি।শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহ পাকের ভয়ে যাবতীয় পাপাকার্য থেকে বিরত থাকের নাম হলতাকওয়া।তাকওয়ার দ্বারা যেকেউ নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ব করতে পারে।।আল্লাহ বলেন,
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখযারা পরহেযগারআল্লাহ্ তাদের সাথে রয়েছেন [বাকারাঃ১৯৪]
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে,তার ঠিকানা হবে জান্নাত [নাযিয়াতঃ৪০-৪১]
.তওবাঃতওবা অর্থ হল অনুতপ্ত হওয়া,লজ্জিত হওয়াফিরে আসা,প্রত্যাবর্তন করা ইত্যাদি।অর্থাৎ,আল্লাহের হুকুম অমান্য করে বা সীমালঙ্ঘনকারী ব্যক্তি কর্তৃক চরম অনুশোচিত হয়ে আল্লাহর কাছে অপরাধস্বীকৃতির মধ্য দিয়ে বিনয়ের সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করার নাম হল তওবা। অর্থাৎ,গুনাহ করার পর সেখান তা থেকে যদি কেউ পরিত্রান পেতে চায় এরজন্য তাকে আল্লাহের কাছে সর্বপ্রথম একনিষ্ঠভাবে তওবা করতেহবে যে আরধনার মাধ্যমে যেকেউ আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য লাভ এবং আত্মপরিশুদ্বতা অর্জন করতে পারে।তওবার মানে শুধু এই না যে সে পাপের জন্য কেবল ক্ষমা চাবে না বরং সে পাপ কাজটি না করার জন্য সেদৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবে।অন্যথায় তা তওবা হবে। আল্লাহ বলেন,
নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালবাসেন[বাকারাঃ২২২] 
রাসূলে করীম (সাঃবলেনতওবাকারীদের কোন গুনাহ থাকে না।।
অর্থাৎতওবার দ্বারা অতি সহজে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা যায়

.তাওয়াক্কুলঃসর্বাবস্থায় এক আল্লাহের উপর কেবল নির্ভর হওয়াকে তাওয়াক্কুল বলা হয়।তাওয়াক্কুলের ধারনা তাওহীদ হতে এসেছে।এক সর্বশক্তিমান আল্লাহের উপর নির্ভর করা ছাড়া আর অন্য কোন শক্তিউপর নির্ভর করা ইসলামবিরোধী।ইমাম গাযযালি(.) বলেন,”তাওয়াক্কুলের অবস্থা তিন ধরনের হয়।প্রথম অবস্থা হল এমন যে সে সাধারণভাবে আল্লাহের উপর নির্ভর করবে।দ্বিতীয়ত,তাওয়াক্কুল্কারী ব্যক্তিরঅবস্থা এমন হবে যে একজন শিশু তার প্রতি ঠিক যেমন নির্ভর করে অর্থাৎ তার মাতা ছাড়া আর কারও আশ্রয় লাভ করে না ঠিক তদ্রুপ  ব্যক্তি আল্লাহের প্রতি এমন নির্ভর করে থাকবেন। আর সবশেষ স্তরহল এমন যে সে পৃথিবীর কোন কিছুর প্রতি মুখাপেক্ষী নয় এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি।আত্মশুদ্বির জন্য এটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। রাসূল (সাঃবলেন,
তোমরা এমনভাবে তাওয়াক্কুল যেমনিভাবে একটি পাখি আল্লাহের প্রতি তাওয়াক্কুল করে।অর্থাৎ সে সকালে বের হয় অনাহারে আর বিকালে ঘরে ফিরবার পূর্বে পেটপূর্ণ হয়ে ফিরেআসে [তিরমিযী]
আল্লাহ বলেন,
 সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকেতবে বলে দাওআল্লাহ্ই আমার জন্য যথেষ্টতিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশেরঅধিপতি।” [তওবাঃ১২৯]
.ইখলাসঃ সূফী-সাধকগণ হৃদ্বের পবিত্রতা  সরলতা রক্ষা করে চলে।তারা সর্বদা আল্লাহের ধ্যানে মশগুল থাকে।তারা তাদের চিন্তা-ধারার সময় আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে আনেন না।যাবতীয় সন্দেহযুক্ত কাজবর্জন,বিবেকবিরোধী কার বর্জন করা এবং যা আল্লাহ থেকে দূরে নিয়ে যায় এমন কাজ বর্জন করা পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম সহায়ক।আল্লাহের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন  পার্থিব মোহ এড়ানোর মাধ্যমেসূফীগণ অন্তরে পবিত্রতা অর্জন করেন।আল্লাহ বলেন,
আপনি বলুনঃ আমার নামাযআমার কোরবাণী এবং আমার জীবন  মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহ্রই জন্যে” [আনআমঃ১৯২]
রাসূলে করীম (সাঃবলেছেন,“ইখলাসওয়ালাদের জন্য সুসংবাদ হোক।তারা অন্ধকারে চেরাগস্বরুপ।তাদের দ্বারা কঠিন হতে কঠিন ফিৎনা দূর হয়[বায়হাকি]
.যিকিরঃযিকিরের আভিধানিক অর্থ হল স্মরণ করা।শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহ পাকের স্মরণ করাকে যিকির বলা হয়।যিকির বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যে ধরনের যিকির নীরবে হয়ে থাকে সেসকলযিকিরকে যিকিরে কালবী বা যিকিরে খফী বলা হয়।আর যে ধরনের যিকির স্বশব্দে উচ্চারিত হয় তা হল যিকিরে জলী বা যিকিরে লিসানী।এ দু ধরনের যিকিরের মাধ্যমে বান্দা নিজের আত্মাকে পূত-পবিত্র করতেপারে।যিকির করার ফযীলত অপরিসীম।আল্লাহ বলেন,
সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করআমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো” [বাকারাঃ১৫২]
“ মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর এবং সকাল বিকাল আল্লাহ্র পবিত্রতা বর্ণনা কর[আহযাবঃ৪১-৪২]
কুরআন তিলওয়াতঃ কুরআন তিলওয়াত হল নফ্ল ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদত।কুরআন তিলওয়াতের মাধ্যমে একজন বান্দার সাথে আল্লাহ পাকের কথোপকন হয় এবং যিকিরের মর্যাদা লাভ করতে পারে।তার মানবিক গুণাবলী বৃদ্বি পায়।রাসূল(সাঃবলেন, “লোহার উপর যেমন মরীচা পড়ে তেমনিভাবে মানুষের অন্তরের উপর মরীচা পড়ে।আর এই মরীচা দূর করার উপায় হল বেশি বেশিকরে কুরআন তিলওয়াত এবং মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করা।
.সুন্নাতকে অনুসরণঃ সুন্নাত অর্থ হল পথ।রাসূল(সাঃ)এর পথকে অনুসরণ করাকে সুন্নাত বলা হয়।সুন্নাতকে অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর একজন প্রিয়বান্দা আত্মশুদ্বি অর্জন করতে পারে।মুসলমান হিসেবেসুন্নাতকে অনুসরণ করা সকলের জন্য জরুরি।আল্লাহ বলেন,
বলুনযদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসতাহলে আমাকে অনুসরণ করযাতে আল্লাহ্  তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন।” [ইমরানঃ১৩১]
যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহ্রই হুকুম মান্য করল।”[নিসাঃ৮০]
.নেক আমল করাঃআত্মশুদ্বি করার আরেকটি বিশেষ রাস্তা হল নেক আমল করা।শুধুমাত্র ঈমান থাকলে হবে না।ঈমানের দাবী অনুযায়ী কাজ করতে হবে।আর মানব সৃষ্টির অন্যতম লক্ষ্য হল আল্লাহ পাকেরজন্য ইবাদত তথা নেক আমল করবে।এই ইবাদত –বন্দেগীর দ্বারা একজন বান্দা আত্মশুদ্বি অর্জন করতে পারে।আল্লাহ বলেন,
আমি জীন এবং ইনসানকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য।” [যারিয়াতঃ৫৫]
১০.সালাত আদায়,যাকাত প্রদান,সিয়াম সাধনা  এবং হজ্জ পালনঃ সালাত,সিয়াম,হজ্জ এবং যাকাত হল ইসলামের পঞ্চসম্ভের ভিতর অন্যতম।পারতপক্ষে এসকল আমল ছাড়া কেউ কখনও মুসলিমথাকতে পারে না।এসকল আমলসমূহের দ্বারা আত্মশুদ্বি অর্জন করা যায়।  ব্যাপারে কুরআন-হাদীসে অসংখ্য উদ্বৃতি পাওয়া যায়।তা হলঃ
নিশ্চয় নামায অশ্লীল  গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে।”[আনকাবূতঃ৪৫]
তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহকর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে[তওবাঃ১০৩]
হে ঈমানদারগণতোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছেযেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপরযেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।” [বাকারাঃ১৮৩]
১১সবর করাঃ সবর অর্থ হল ধৈর্য।আর ধৈর্য হল  বিষয়টি যার সাহায্যে একজন মানষ তার বিপদ-আপদ,সুখে-দুখে,ক্ষুধা-তৃষ্ণায়,অত্যাচার-অবিচার ইত্যাদি সর্বাবস্থায় এক আল্লাহের ইবাদত বন্দেগীতে মগ্নথাকবে এবং আল্লাহ  তার রাসূলের পথ অনুসরণ করে।ধৈর্যের তিনটি স্তর রয়েছে।এক ধরনের ধৈর্য আছে যাতে মানুষের ভিতর কখন সবর থাকে আবার কখন থাকে না।আবার আরেকটি স্তর হল কখনো মন্দঅবস্থায় সে দিশেহারা হবে না।আর সর্বশেষ স্তরটি হল এমন যে সে কখনো দুঃখ-কষ্টের জন্য কখনও বিচলিত হবে না।এ সর্বশেষ স্তরের দ্বারা যে কেউ তার এই সবরের গুণে সূফিবাদের চরম লক্ষে পৌছে যায়।ইমাম গাযযালী (.) বলেনধৈর্য হল শয়তানের প্ররোচনা  আত্মার নিম্নতর প্রবৃত্তি সম্পর্কে হুশিয়ারীতে পূর্ণ বিশ্বাস সবরের দ্বারা যে আল্লাহ পাকের ভালবাসা একান্তভাবে অর্জন করা যায়তা নিমোক্ত আয়াত দ্বারা প্রমানিত হয়। আল্লাহ বলেন,
হে মুমিন গনতোমরা ধৈর্য  নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ্ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।”[বাকারা]      
১২.শোকর আদায় করাঃশোকর শব্দের অর্থ হল কৃতজ্ঞতা।আল্লাহ পাক একজন মানষকে যে হাত,পা।চোখ,নাক,কান,মুখ,বাতাস,রিযিক,পানি দিয়েছে তার জন্য আল্লাহের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নাম হলসাধারণভাবে শোকর।শোকর আদায়ের মধ্য দিয়ে একজন বান্দা আত্মশুদ্বিতা অর্জন করতে পারে।আল্লাহ বলেন,
যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতবে তোমাদেরকে আরও দেব” [ইব্রাহীমঃ৭]
১৩আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণঃএকজন শিক্ষকের প্রতি তার ছাত্র পুরোপুরিভাবে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত পূর্ণ শিক্ষা অর্জন করতে পারে না তেমনিভাবে আল্লাহের প্রতি সকল ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণ  আনুগত্যনা করা পর্যন্ত সে পরিপূর্ণ মারিফত অর্জন করতে পারবে না।তাই তাই আত্মশুদ্বির অন্যতম উপায় হল অন্যতম লক্ষ্য হল এক আল্লাহের প্রতি আত্মসমর্পণ করা
১৪.পশুত্ব চরিত্র পরিবর্জনঃ শয়তান হল মানুষের চির শত্রু।শয়তান সর্বদা মানুষকে বিভিন্ন ধরনের পাপাচারে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ব করে।এর দ্বারা কখনও আত্মশুদ্বি সম্ভভপর নয়।তাই আত্মশুদ্বি অর্জনের জন্যগীবত করা,মিথ্যা বলা,অপবাদ দেওয়া,উপহাস খাওয়া,সুদ খাওয়া,ঘুষ খাওয়া,ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া ইত্যাদির মত জঘন্য অপরাধ হতে নিজেকে সার্বক্ষণিক মুক্ত রাখতে হবে।আল্লাহ বলেন,
যে নিজেকে (আত্মাকেশুদ্ধ করেসেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করেসে ব্যর্থ মনে রেথ হয় [শামসঃ৯-১০]
১৫আত্মাকে স্বাভাবিক রাখাঃ আত্মাকে পাপমুক্ত রাখার মাধ্যমে একজন বান্দা অন্তরে বিশুদ্বতা অর্জন করতে পারে।রাসূল(সাঃবলেছেন,
শরীরের দেহে একটি মাংস আছে যদই তা পরিশুদ্ব হয় তবে গোটা শরীর পরিশুদ্ব হয়।আর যদি তা খারাপ হয়,তবে সমস্ত শরীরই খারাপ হয়।মনে রেখো তা হল কাল্ব বাদিল[বুখারী  মুসলিম]
অর্থাৎমানুষকে চারিত্রিক দিক হতে পবিত্র রাখার জন্য অন্তরের পরিশুদ্বতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম
১৬ .পাপ হতে মুক্ত রাখাঃ নিজেকে কেউ যাবতীয় পাপকার্য থকে বিরত থাকার মাধ্যমে আত্মশুদ্বি অর্জন করতে পারে।রাসূল (সাঃবলেন,মুমিন যখন কোন পাপ করে তখন তার অন্তরে কালোদাগ পড়ে।সে যদি ক্ষমা চায় তাহলে তা দূর হয়ে যায়।

১৭.আল্লাহের গুণে গুণান্বিতঃ আল্লাহ পাকের কতিপয় গুণাবলী যার গুণে গুণ্বানিত হয়ে আত্মশুদ্বি অর্জন করা যায়।আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহর গুণে গুণ্বানিত হও।
১৮.দাওয়াত  তাবলীগের কাজ সম্পাদনঃ দাওয়ার এবং তাবলীগী কাজের দ্বারা আত্মশুদ্বি অর্জন করা যায়।আল্লাহ বলেন,
 ব্যক্তির চেয়ে আর উত্তম কথা কার হতে পারে যে কথা মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে আর নিজে নেক আমল করে আর বলে আমি মুসলমানদের একজন।”[হামীম-সিজদাহঃ৩১]
উপসংহারঃ
উপরের আলোচনা থেকে  কথা বুঝা যায় যেমানব জ়ীবনে আত্মশুদ্বির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।আল্লাহর প্রিয় বান্দা এবং তার উত্তম বন্ধু হওয়ার জন্য আমাদেরকে উপরোক্ত নিয়মানুযায়ী আত্মাকে পরিশুদ্বকরতে হবে