Thursday, October 1, 2015

তাসাউফ শিক্ষা

লা'মকাম হচ্ছে মহাশূন্য জায়গা. লা-- নাই., মকাম-- ঘর......মহাশূণ্য ভাব, ঊর্ধআকাশ… যেখানে নাই চাঁদ, নাই সূর্য, নাই কোন ভবের চিন্তা. অর্থ্যাৎ লা ইলাহা- নাই কোন কিছু। এই মকাম পারি দিতে পারলেই. শান্তিময় নুরের মকাম. এই নুরের মকাম সিদ্ধ হলেই আপনগুরু ৭০ হাজার নুরের পর্দা থেকে বের হয়ে ভক্তের সাথে দর্শন হয়...তখন ভক্ত আর গুরু দুজনই এক হয়ে যায়..যেমনঃ (তুমি) আর (আমি) /আমি আর তুমি.........এখান থেকে যদি (আর) কথাটা উঠানো হয় তাহলে হবে (তুমিই আমি) ...(আমিই তুমি)....কিন্তু নফস এতই শক্তিশালি আমাদেরকে লা মকামে যেতে হাজার বাধা খাড় করিয়ে দেয়. যেকারনে লা' মকামে পৌছানো যায়না.....দেহের ভিতরে ছয়রিপু, ১০ ইন্দ্রিয় এর পতন...করা আপন গুরুর দয়া বিনে কেউ করতে পারেনা...কি ভাবে পতন করতে হবে সেই কৌশল একমাএ আপনগুরুই জানে...গুরু একজন ভক্তকে খানা মুখে তুলে দিতে পারে কিন্তু চিবানোর দায়িত্ব ভক্তের.... ভক্তের আত্মউন্নির জন্য গুরুকে কঠোর তপস্যা করতে হয়…তায়াজ্জোর মাধ্যমে, গুরু বিনা মানুষ হওয়ার কোন সুযোগ নেই অনেক ভেবে, অনেক দেখে, আমি .......বলি। আর এই নফসকেই বশিভুত করার জন্যই কুম্ভক. রেচক. পরিপুরক. জিকির. জ্ঞানযোগ. কর্মযোগ. ভক্তিযোগ. রাজযোগ. নিদিধ্যান. ধ্যানযোগ.মোরাকাবা. মোশাহেদা. দশলতিফা. ফানাফিন্নাস, ফানা ফিশ শায়েখ. ফানা ফির রাসুল. ফানা ফিল্লাহ্ . বাকা বিল্লাহ্ এবং গুরুনাম ইত্যাদি সাধনা করা হয়।
হযরত হাসান বসরী (রাঃ) বলেন: ‘নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা একটি পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রণ করা থেকেও কঠিন।’ সুতরাং বুঝা গেল নফসকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কত কঠোর সাধন ও ভজন করতে হবে। আর মাওলার দর্শন সে তো অনেক কিচ্ছা-কাহিনীর পর,অনেক দূরের কথা । কঠোর কৃচ্ছসাধনার পরও হয়তবা দয়ালের দেখা পাওয়া যায় না, যদিও কোটিতে গোটিমিলে শুধুমাত্র তাঁর দয়াবিনে। মানবজীবন খুবইঅল্প সময়। এই সময়টাকে সঠিক কাজে ব্যায় করা দরকার। আর সেই সঠিক কাজটা হল আত্মার উন্নতি। যদিও আত্মাকে শাস্তি দেয়া যায় না। কারন শাস্তি পাওয়া আত্মার গুণবর্হিভূত। তবুও আত্মা শাস্তি পায়। (যা ভেদরহস্য এ বিষয় কিছু লিখবনা) । ‘‘আমরা আল্লাহ্ এবাদত-বন্দেগী বা গোলামী করতে আসি নাই, এসেছি তাঁর প্রতিনিধি হয়ে। আর মনিব থেকে একেবারে হয়ে গেলাম গোলাম।’’ এমনকথা আমি না কোরানে কয়। একটা কথা বলি কেউ মাইন্ড করবেন না। লিখাটা পড়ে ভাল না লাগলে,সমালোচনা করবেন না। যদিও আমার লিখালিখি করা উপর থেকে নিষেধ। তবুও একটা কথা লিখলাম আপানাদের উপর আস্তারেখে…কিসের বেহেশত আর কিসের দোজক। এইসব ……..(বাচ্চাদের চকলেট দিয়ে শান্ত রাখার মত) আর লিখলাম না। আসল হল প্রেম যা আত্মায় আত্মায় মিলন। রূহের গুণে গুণান্বীত হওয়া। আত্মার উন্নতি করেন। তাছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। ‘‘যতক্ষন পর্যন্তনা আপনি আপনার রবকে দেখতে পারছেন, ততক্ষন পর্যন্ত কোন কাজে আসবেনা আপনার এবাদত-বন্দেগী, সব ডাষ্টবিনে ছুড়ে ফেলা হবে।’’ এমন কথা আমি না কোরআনে কয়। আপনি হয়তো মনে করতে পারেন যে, কলিমা,নামাজ,রোজা,হজ্জ,যাকাত ইত্যাদি সব ভালকাজ করে গেলেই চলবে। শুধু তাই সঠিক হবে না বলে মনে হয় আমার। রূহের রং আর আপনার রং যতক্ষন না এক রং ধারন করে ততক্ষন আপনার মুক্তি নেই। সুতরাং তাঁকে দেখতে হবে, দেখার চেষ্টা করুন।

No comments:

Post a Comment