Thursday, October 1, 2015

মুয়াবিয়ার রাজতন্ত্র

মুয়াবিয়ার রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও খেলাফত উচ্ছেদঃ
ক্ষমতা মুয়াবিয়ার হস্তগত হলে ইসলামী খেলাফত এর অবসান ঘটে এবং রাজতন্ত্রের সুত্রপাত ঘটে। মুয়াবিয়ার বায়াত এর পর সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস মুয়াবিয়ার উদ্দেশে বলেন- হে রাজা আপনার প্রতি সালাম। (ইবনুল আসির ৩য় খণ্ড) মুয়াবিয়া নিজেও বলেছেন আমি মুসলমান দের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজা। (আলবিদায়া ওয়ান নেহায়া ৮ম খণ্ড) হাফেজ ইবনে আসীর বলেন-মুয়াবিয়া কে খলিফা না বলে রাজা বলা সুন্নত। কারন মহানবী সাঃ বলেন আমার পর ত্রিশ বছর খেলাফত থাকবে অতঃপর বাদশাহির আগমন ঘটবে। হিজরি ৪১ সালে ইমাম হোসেন আঃ এর খেলাফত ত্যাগের মাধ্যমে সে মেয়াদ পূর্ণ হয়। ( দেখুন আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৮ম খণ্ড মুয়াবিয়াকে ইমাম হাসান এর হত্যাকারী উল্লেখ করে আল্লামা আব্দুর রহমান জামি রাঃ তার বিখ্যাত কিতাব শাওয়াহেদূন নবুয়ত কিতাব এ লিখেন –হযরত ইমাম হাসান আঃ কে মুয়াবিয়ার আদেশেই তার স্ত্রীর মাধ্যমে বিষ দেয়া হয়েছিল। বিশিষ্ট সাহাবা হাজর ইবনে আদি রাঃ কে জীবিত দাফনঃ মুয়াবিয়ার নির্দেশে ৭০ হাজার এর অধিক মসজিদ এ যখন মওলা আলী আঃ ও তার পবিত্র বংশধর দের গালিগালাজ ও অভিসম্পত দেয়া হচ্ছিল তখন হযরত হাজর ইবনে আদি কুরআন ও হাদিস থেকে শেরে খোদা মওলা আলীর শানে বর্ণিত তা পাঠ করতে লাগলেন। অতঃপর মুয়াবিয়ার নির্দেশে হাজর বিন আদি রাঃ ও তার সাত জন সঙ্গিকে হত্যা করা হয় অত্যন্ত নির্মম ভাবে। মুয়াবিয়ার নির্দেশে তাদের কে জীবিত মাটিতে পুতে মারা হয় যাতে কেও মুয়াবিয়ার আদেশ অমান্য করার সাহস না পান।( এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরন তাবারী ৪র্থ খন্ড,ইবনুল আসীর ৩য় খণ্ড,আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৮ম খন্দ,ইবনে খালদুন ৩য় খণ্ড) এই নির্মম হত্যা কাণ্ডের পর আবুল আওলিয়া হযরত হাসান বসরি রাঃ অভিমত প্রকাশ করেন যে, এ অহেতুক হত্যাকাণ্ডের কারনে মুয়াবিয়ার নিষ্কৃতি নেই। ( ইবনুল আসীর ৩য় খণ্ড, আল বেদায়া ৮ম খণ্ড) এই ঘটনা থেকে বিরত থাকার জন্য হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ আগেই পত্রের মাধ্যমে নিষেধ করেছিলেন কিন্তু মুয়াবিয়া হযরত আয়েশার এই কথা শুনেন নি। পরে হযরত আয়েশা রাঃ মুয়াবিয়ার সাক্ষাতে আসলে বলেন –হে মুয়াবিয়া তুমি হাজর কে হত্যা করতে গিয়ে আল্লাহকে একটুকুও ভয় করলা না? (বিস্তারিত দেখুন আল ইস্তিয়াব ১ম খণ্ড, তাবারী ৪র্থ খণ্ড) এই সব মুনাফিক হত্যাকারী দের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ কুরআন এ বলেন- কোন মুসলমান কে যে স্বেচ্ছায় হত্যা করবে তার শাস্তি দোজখে এবং সেথায় সে চিরস্থায়ী হবে, তার উপর আল্লাহর লানত (সুরা নেছা ৯৩)বায়তুল মালের অপব্যবহারঃ বায়তুল মাল হচ্ছে খলিফা বা সরকারের নিকট আল্লাহ্‌ ও জনগনের আমানত। অথচ মুয়াবিয়া রাজা হবার পর বায়তুল মাল কে নিজের মালে পরিনত করেছেন। বায়তুল মালে জনগনের অধিকার বলতে কিছু ছিল না। তিনি তার ইচ্ছা মোতাবেক ভোগ ও বণ্টন করতেন। বায়তুল মালের হিসাব চাওয়ার অধিকার কারো থাকল না। জনগণ কে নির্ভর করতে হত বাদসার দান দাক্ষিণ্যর উপর। (ইবনুল আসীর ৪র্থ খণ্ড,আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৯ম খণ্ড) নও মুসলিম দের উপর জিজিয়া করঃ ইসলামের বিস্তার এর ফলে মুসলমান বেড়ে যায় ফলে জিজিয়া কর কমে যায়। তাই বায়তুল মাল এর আয় হ্রাস পায় যা মুয়াবিয়ার ভোগ বিলাস এ ব্যঘাত সৃষ্টি হয়। তাই মুয়াবিয়া নও মুসলিম দের মধ্যে জিজিয়া কর আরোপ করা হয়। যা সম্পূর্ণ কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। সাধারন মানুষের ইসলাম গ্রহন এর চাইতে ও মুয়াবিয়ার ধন সম্পদ বৃদ্ধি করাই ছিল তার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। (ইবনুল আসীর ৪র্থ খণ্ড) মুয়াবিয়া কুরআন এর আদেশ লঙ্ঘন করে গনিমত এর মালের মূল্যবান সোনা চাঁদি নিজেই রেখে দিতেন। (আত তাবারী, আল ইস্তিয়াব ১ম খণ্ড, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া ৮ম খণ্ড

আত্ম সংশোধন

আত্ম সংশোধন
"ক্বলব একটি মাংসের টুকরা, উহার ভিতরে পেট অাছে, এমন কি উহার ভিতরে ৭টি পেট রহিয়াছে" ৷ অর্থাৎ ক্বলব যদিও স্থূল জগতের অন্তর্গত একটি মাংসের টুকরা, এর ভিতরে সূক্ষ্ম জগতের অংশ
৭টি স্তরে বিরাজ করে ৷
১. ছুদুর ৷
২. নসর ৷
৩. সামছী ৷
৪. নূরী ৷
৫. কোরব ৷
৬. মাকীম ও
৭. নফসী ৷
ক্বলবের সূক্ষ্ম এই ৭টি স্তর মর্যাদায় স্থূল দেহের চেয়ে উর্ধ্বে ৷ এগুলির একে অন্যের মধ্যেও অাবার মর্যাদার তারতম্য রয়েছে ৷ নফসী স্তরের মর্যাদা সবার উর্ধ্বে ৷ ছুদুরের স্তর রিপুর তাড়নাযুক্ত বলেই এটাকে শয়তানের বাসস্থান বলা হয়েছে ৷ অপর দিকে নফসীর স্তরে অাল্লাহতা'লার জাত পাকের নূর বিরাজ করে ৷ অাল্লাহকে পাওয়ার সাধনায় সাধককে ক্বলবের এই সূক্ষ্ম স্তরসমূহ একে একে অতিক্রম করে "নাফসীর মাকামে" অাল্লাহর সাথে মিলিত হতে হয় ৷ স্থূল জগতের সাথে সম্পর্কিত ক্বলবের প্রথম স্তর রিপুর তাড়নাযুক্ত থাকে ৷ মহামানবের অর্থাৎ অাপন মুর্শিদের নিকট হতে ফায়েজ হাসিল করে অাপন হ্নদয়ের রিপুসমূহ 'সাফা' অর্থাৎ পরিশুদ্ধ করে, তথা— এদের কু - খায়েশ দূরিভুত করে সাধক তার ক্বলবের প্রথমস্তর ছুদুরের অাধিপত্য লাভ করে ৷ এভাবে সে তার জীবাত্মা (নফস) কে পরমাত্মার(রুহের) সহায়তায় বিশ্ব অাত্মার সাথে মিলন তথা বিশ্ব রবে'র সাথে মিলন লাভের যোগ্যতা সম্পন্ন করে তোলে ৷৷

তাসাউফ শিক্ষা

লা'মকাম হচ্ছে মহাশূন্য জায়গা. লা-- নাই., মকাম-- ঘর......মহাশূণ্য ভাব, ঊর্ধআকাশ… যেখানে নাই চাঁদ, নাই সূর্য, নাই কোন ভবের চিন্তা. অর্থ্যাৎ লা ইলাহা- নাই কোন কিছু। এই মকাম পারি দিতে পারলেই. শান্তিময় নুরের মকাম. এই নুরের মকাম সিদ্ধ হলেই আপনগুরু ৭০ হাজার নুরের পর্দা থেকে বের হয়ে ভক্তের সাথে দর্শন হয়...তখন ভক্ত আর গুরু দুজনই এক হয়ে যায়..যেমনঃ (তুমি) আর (আমি) /আমি আর তুমি.........এখান থেকে যদি (আর) কথাটা উঠানো হয় তাহলে হবে (তুমিই আমি) ...(আমিই তুমি)....কিন্তু নফস এতই শক্তিশালি আমাদেরকে লা মকামে যেতে হাজার বাধা খাড় করিয়ে দেয়. যেকারনে লা' মকামে পৌছানো যায়না.....দেহের ভিতরে ছয়রিপু, ১০ ইন্দ্রিয় এর পতন...করা আপন গুরুর দয়া বিনে কেউ করতে পারেনা...কি ভাবে পতন করতে হবে সেই কৌশল একমাএ আপনগুরুই জানে...গুরু একজন ভক্তকে খানা মুখে তুলে দিতে পারে কিন্তু চিবানোর দায়িত্ব ভক্তের.... ভক্তের আত্মউন্নির জন্য গুরুকে কঠোর তপস্যা করতে হয়…তায়াজ্জোর মাধ্যমে, গুরু বিনা মানুষ হওয়ার কোন সুযোগ নেই অনেক ভেবে, অনেক দেখে, আমি .......বলি। আর এই নফসকেই বশিভুত করার জন্যই কুম্ভক. রেচক. পরিপুরক. জিকির. জ্ঞানযোগ. কর্মযোগ. ভক্তিযোগ. রাজযোগ. নিদিধ্যান. ধ্যানযোগ.মোরাকাবা. মোশাহেদা. দশলতিফা. ফানাফিন্নাস, ফানা ফিশ শায়েখ. ফানা ফির রাসুল. ফানা ফিল্লাহ্ . বাকা বিল্লাহ্ এবং গুরুনাম ইত্যাদি সাধনা করা হয়।
হযরত হাসান বসরী (রাঃ) বলেন: ‘নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা একটি পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রণ করা থেকেও কঠিন।’ সুতরাং বুঝা গেল নফসকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কত কঠোর সাধন ও ভজন করতে হবে। আর মাওলার দর্শন সে তো অনেক কিচ্ছা-কাহিনীর পর,অনেক দূরের কথা । কঠোর কৃচ্ছসাধনার পরও হয়তবা দয়ালের দেখা পাওয়া যায় না, যদিও কোটিতে গোটিমিলে শুধুমাত্র তাঁর দয়াবিনে। মানবজীবন খুবইঅল্প সময়। এই সময়টাকে সঠিক কাজে ব্যায় করা দরকার। আর সেই সঠিক কাজটা হল আত্মার উন্নতি। যদিও আত্মাকে শাস্তি দেয়া যায় না। কারন শাস্তি পাওয়া আত্মার গুণবর্হিভূত। তবুও আত্মা শাস্তি পায়। (যা ভেদরহস্য এ বিষয় কিছু লিখবনা) । ‘‘আমরা আল্লাহ্ এবাদত-বন্দেগী বা গোলামী করতে আসি নাই, এসেছি তাঁর প্রতিনিধি হয়ে। আর মনিব থেকে একেবারে হয়ে গেলাম গোলাম।’’ এমনকথা আমি না কোরানে কয়। একটা কথা বলি কেউ মাইন্ড করবেন না। লিখাটা পড়ে ভাল না লাগলে,সমালোচনা করবেন না। যদিও আমার লিখালিখি করা উপর থেকে নিষেধ। তবুও একটা কথা লিখলাম আপানাদের উপর আস্তারেখে…কিসের বেহেশত আর কিসের দোজক। এইসব ……..(বাচ্চাদের চকলেট দিয়ে শান্ত রাখার মত) আর লিখলাম না। আসল হল প্রেম যা আত্মায় আত্মায় মিলন। রূহের গুণে গুণান্বীত হওয়া। আত্মার উন্নতি করেন। তাছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। ‘‘যতক্ষন পর্যন্তনা আপনি আপনার রবকে দেখতে পারছেন, ততক্ষন পর্যন্ত কোন কাজে আসবেনা আপনার এবাদত-বন্দেগী, সব ডাষ্টবিনে ছুড়ে ফেলা হবে।’’ এমন কথা আমি না কোরআনে কয়। আপনি হয়তো মনে করতে পারেন যে, কলিমা,নামাজ,রোজা,হজ্জ,যাকাত ইত্যাদি সব ভালকাজ করে গেলেই চলবে। শুধু তাই সঠিক হবে না বলে মনে হয় আমার। রূহের রং আর আপনার রং যতক্ষন না এক রং ধারন করে ততক্ষন আপনার মুক্তি নেই। সুতরাং তাঁকে দেখতে হবে, দেখার চেষ্টা করুন।

মানবদেহে নফছের অবস্থা

মানবদেহে নফছের অবস্থা ৭টিঃ
১।নফছে আম্মারা অর্থাত্ অসংযমী নফসঃ যে নফছ নিজের ইচ্ছামত কাজ করে থাকে, আল্লাহর আদেশ উপদেশ কিছু মানেনা তাই নফছে আম্মারা।
২।নফছে লাওয়ামা অর্থাত্ মালামতকারী নফছঃ যে নিজের কৃত পাপের জন্য অনুতাপ করে থাকে ও নিজেকে নিজে তিরস্কার করে থাকে তাই নফছে লাওয়ামা।
৩।নফছে মোতমাইন্না অর্থাত্ শান্তিপূর্ণ নফছঃ যে নফছ সকল প্রকার গুনাহ হতে পাক পবিত্র হয়ে যায় ও সর্বাবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় তাই নফছে মোতমাইন্না।এ ধরনের নফছ সর্বসময় আল্লাহর ইচ্ছার উপর সন্তুষ্টি থাকে এবং তাঁর শোকরিয়া আদায় করে।
৪।নফছে মোলহেমা অর্থাত্ এলহাম হোনেওয়ালা নফছঃ যে নফছ সকল প্রকার গুনাহ হতে পাক পবিত্র হয়ে যায় এবং আল্লাহর তরফ থেকে এলহামপ্রাপ্ত হয় তাই নফছে মোলহেমা। যতক্ষণ পর্যন্ত নফছে আম্মারা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত নফছ নাপাক থাকে।যখন নফছ হতে খারাপ জিনিসগুলো দূর হয়ে যায় তখন তা পবিত্র হয়ে পরমাত্মার সাথে মিলিত হয়।সাধনার এক পর্যায়ে গিয়ে তা ফানাফিল্লাহ, বাকাবিল্লাহর মকামে গিয়ে পৌঁছে। নফছের এই গতিবিধি ও পরিচয় জেনে সেমতে আমল করে সফল হবার জন্য কামেল পীরের বাইয়াত